জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম
অকটেন ও পেট্রোলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোটরসাইকেলচালকরা। তাদের প্রশ্ন, দেশের চাহিদার বড় একটি অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অকটেন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হলে কেন এর দাম বাড়ানো হবে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেলচালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। তাদের আশঙ্কা, ধাপে ধাপে দাম বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে।
মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধে কথা হচ্ছিলো চট্টগ্রামের রানা আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, অল্প আমদানি করেও যদি সরকার অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ায় তাহলে তো হাসিনা সরকারই ভালো আছিলো। সামনে তো আরো দাম বাড়বে। বাজেট হলে এক দফা তারপর আরেক দফা। তার মানে দেশের মানুষকে ২০০ টাকা লিটারে তেল কিনতে হবে! এগুলো মানার মতো নয় বলে অভিমত তার।
চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল থেকে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আবারো আরেক দফা বাড়ানোর ফলে ক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হলো। তারা বলছেন, সরকার এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালেও পারত।
আবার কেউ কেউ বলেছেন, নতুন সরকার আসার পরপরই দুই দফায় তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জনগণের মনে নেতিবাচক বার্তা দিলো। বিগত সরকারের সময়েও তেলের দাম দফায় দফায় বেড়েছে কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসার মাত্র সাড়ে তিন মাসে যদি দুইবার তেলের দাম বাড়ায় তাহলে বাকি ৪ বছর ৯ মাসে তারা কতবার বাড়াবে এটাও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
অধিকাংশ বাইকার বলছেন, জনগণ আশা করেছিল হাসিনা সরকারের বিদায়ের পণ্য সামগ্রীর দাম নাগালে থাকবে। কিন্তু আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সবাইকে বিপাকে ফেলেছে।
এবার দ্বিতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আরও বিপাকে পড়েছেন বাইকাররা। বিশেষ করে যারা সারাক্ষণ বাইক ব্যবহার করেন এবং রাইড শেয়ার করেন এমন ব্যক্তিরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
বাইকাররা একটা কথাই বলেছেন, সরকার এই মুহুূর্তে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালেও পারতো।
দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ চৌরাস্তায় কথা হচ্ছিলো সুজন মাহমুদের সঙ্গে। তিনি পেশায় এখন একজন রাইড শেয়ারকারী। সারাদিন যা আয় হয় তাতে তার সংসার চলে। আজ থেকে আরেক দফায় তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে তাকে প্রতি লিটার অকটেন কিনতে গুনতে হবে দুই মাস আগের থেকে ২৫ টাকা বেশি।
তিনি মনে করেন, তেলের দাম বাড়লেও তো ভাড়া বেশি দেবে না রাইড নেওয়া ব্যক্তি। এ্যাপে যা আসবে তাই। কিন্তু তাকে তো কয়েক হাজার টাকা বেশি খরচ করতে হবে তেলের জন্য।
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার আড়ংয়ের বিপরীত পাশে সড়কে কথা হয় আরেক বাইকার রাসেলের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন অফিসিয়ালি কাজ করি। এজন্য বাইকটা ব্যবহার করতে হয়। আজ যে তেলের দাম বাড়লো তাতে কি অফিস আমার বেতন বাড়াবে? অবশ্যই না। তারা তাদের সুবিধামতো বাড়াবে ফলে ততোদিন তো আমাকে বেতন থেকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। এতে সংসারে টান পড়বে। আগে বাচ্চার জন্য রাতে কিছু নিয়ে যাইতাম এখন সে টাকাটা তেলে ভর্তুকি দিতে হবে৷
তিনি আরো বলেন, সরকার তো বিশ্ব ব্যাংককে খুশি করার জন্য এটা করলো কিন্তু আলটিমেটলি কি হলো? এটার চাপ এসে পড়লো আমাদের ওপর। উনি তো আর তেল কেনেন না। সরকারি তেলে উনি সাই সাই করে অফিসে যান। তার তো তেলের দাম কত বাড়লো এটার চিন্তাও নাই।
দুইদিন পরপর তেল নেন রাইড শেয়ারকারী শফিক। তিনি বলছিলেন, আমাকে এখন পার লিটারে ৫ টাকা করে হলে ১২ লিটারে ৬০ টাকা বেশি দিতে হবে। মাসে ১৩-১৪ দিন তেল ভরাই তার মানে হলো এখন প্রায় ৮০০ টাকার কম বা বেশি টাকা পকেট থেকে বের হয়ে যাবে। যা দিয়ে অন্তত এক কেজি গরুর মাংস কিনতাম।
শুধু শফিক, রাসেল এবং সুজনই নয়, প্রায় দেড় মাসের মাথায় আরেক দফা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে সব বাইকাররা।
তারা বলছেন, গেল মার্চ ও এপ্রিলে তারা তেলের জন্য সারারাতও জেগেছেন। তবে তেল মেলেনি অনেক জায়গায়। তারপর শুরু হলো রেশনিং বা এ্যাপে তেল কেনা। তেলের এক দফা দাম বৃদ্ধির সেই রেশ কাটতে না কাটতে আরেক দফা দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে ‘মড়ার ওপর খড়ার ঘাঁ’ বলছেন কেউ কেউ।
এমআইকে/এআরএম