images

জাতীয়

ট্রেন, রাইড আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর চিড়িয়াখানার শিশু কর্নার

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ মে ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সরগরম ছিল শিশু কর্নার। বাঘ, সিংহ, হাতি কিংবা জিরাফ দেখে বের হওয়ার পর অধিকাংশ শিশুর গন্তব্য ছিল এই কর্নার। 

ছোট্ট ট্রেন, ঘূর্ণায়মান রাইড, দোলনা আর শিশুদের হাসি-আনন্দে দিনভর মুখর ছিল পুরো এলাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বড় একটি অংশকে দেখা গেছে শিশুদের আবদার মেটাতে কর্নারের বিভিন্ন রাইডের সামনে ভিড় করতে।

রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানার শিশু কর্নার ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই সেখানে শিশুদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্নারের বিভিন্ন রাইডের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। কেউ ট্রেনে চড়ার অপেক্ষায়, কেউ দোলনায়, আবার কেউ ছোট ছোট বৈদ্যুতিক রাইডে ওঠার জন্য ব্যস্ত। শিশুদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক আনন্দমেলায়।

8790a836-d1ac-4ce8-ae5e-102366256df5

চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রাণী দেখা শেষে বাবা-মায়ের হাত ধরে শিশুদের অধিকাংশই ছুটে আসে শিশু কর্নারে। সেখানে প্রবেশ করেই তাদের চোখ আটকে যায় রঙিন ট্রেন আর বিভিন্ন রাইডে। অনেক শিশুকে আনন্দে চিৎকার করতে দেখা যায়। কেউ ছবি তুলছে, কেউ আবার বাবা-মায়ের মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু কর্নারের বিভিন্ন অংশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন। রাইডে ওঠা-নামার সময় শিশুদের সহায়তা করতেও দেখা গেছে তাদের। ফলে অভিভাবকরাও কিছুটা স্বস্তি নিয়ে সন্তানদের খেলাধুলা করতে দিচ্ছেন।

শিশু কর্নারের চারপাশে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী শিশুরা নিজেদের মতো করে আনন্দ উপভোগ করছে। কেউ দৌঁড়াদৌড়ি করছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে খেলছে, আবার কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে ছবি তুলছে। অনেক পরিবারকে কর্নারের পাশে বসে বিশ্রাম নিতেও দেখা যায়।

মিরপুর থেকে পাঁচ বছরের ছেলে আরহামকে নিয়ে এসেছেন ফারহানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, সকালে বাঘ, সিংহ ও হাতি দেখানোর পর ছেলেকে নিয়ে শিশু কর্নারে এসেছি। প্রাণী দেখার চেয়ে ট্রেনে চড়ার জন্যই তার আগ্রহ বেশি। এখানে এসে খুব আনন্দ করছে।

58803c6c-94c1-4cce-9cab-73744fe9e5f0

শিশু কর্নারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ছোট্ট ট্রেনটি। ট্রেনটি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠতে দেখা যায়। ট্রেনের প্রতিটি বগি ছিল শিশুদের কোলাহলে মুখর। অনেক অভিভাবক ট্রেনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন।

পল্লবী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, ঈদের ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হয়েছি। চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলো দেখার পর এখন তারা শিশু কর্নারে সময় কাটাচ্ছে। তাদের আনন্দ দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।

কালশী থেকে আসা মেহেদী হাসান তার মেয়েকে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন একটি রাইডের সামনে। তিনি বলেন, ঢাকায় শিশুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার জায়গা খুব বেশি নেই। তাই ছুটির দিনগুলোতে চিড়িয়াখানাই আমাদের প্রথম পছন্দ। এখানে প্রাণী দেখার পাশাপাশি শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা থাকায় ভালো লাগে।

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণীগুলোর পাশাপাশি শিশু কর্নারও ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। ট্রেন, রাইড আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর এই কর্নার প্রমাণ করেছে, জাতীয় চিড়িয়াখানা শুধু প্রাণী দেখার স্থান নয়, বরং পরিবার ও শিশুদের আনন্দ ভাগাভাগিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। আজ ছুটির শেষ দিনেও মানুষের উপস্থিতি সন্তোষজনক। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল ১ লাখের বেশি দশর্নার্থী এসেছিল, তার আগেরদিন ৮০ হাজার মত, ঈদের দিন ১৬ হাজার মত। তবে আজ সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এএইচ/এআরএম