images

জাতীয়

ছুটির শেষ দিনেও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ মে ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনেও রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে। 

বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ, জেব্রা, ভাল্লুক, বানর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে শিশু থেকে বয়স্ক সবার মধ্যেই ছিল ব্যাপক আগ্রহ। প্রাণীদের এক ঝলক দেখার জন্য বিভিন্ন খাঁচার সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেও দেখা যায় দর্শনার্থীদের।

f110f565-90d6-44b2-8d09-7894d2761802

রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, প্রবেশ ফটক থেকে শুরু করে ভেতরের প্রায় প্রতিটি অংশেই মানুষের ভিড়। ছুটির শেষ দিন হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। শিশুদের হাত ধরে বাবা-মা, দলবেঁধে আসা তরুণ-তরুণী এবং পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো চিড়িয়াখানা।

বাঘের খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে প্রাণীটিকে দেখছিলেন মোহাম্মদপুর থেকে আসা তরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাচ্চাদের অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল চিড়িয়াখানায় আসার। ঈদের ছুটির শেষ দিন হওয়ায় তাদের নিয়ে চলে এসেছি। বাঘ ও সিংহ দেখেই তারা সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে।

হাতির আবাসস্থলের সামনে দেখা যায় শিশুদের উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। বাবা-মায়ের কাঁধে চড়ে কিংবা হাত ধরে দাঁড়িয়ে তারা বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখছে। মিরপুর থেকে আসা সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার ছেলে বইয়ে হাতি দেখেছে, টেলিভিশনেও দেখেছে। কিন্তু সামনে থেকে দেখে ওর আনন্দের শেষ নেই।

জিরাফের খাঁচার সামনেও ছিল মানুষের ভিড়। লম্বা গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাণীটিকে দেখে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন অনেকেই। গাজীপুর থেকে আসা মাবরুর মুন্তাসির বলেন, জিরাফ সব সময়ই আমার পছন্দের প্রাণী। বাচ্চাদের নিয়েও এখানে এসেছি। ওরাও খুব আনন্দ পাচ্ছে।

চিড়িয়াখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, সিংহের খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। অনেকেই সিংহের চলাফেরা দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। প্রাণীটি একবার গর্জন করলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়।

পাখির অভয়ারণ্যেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। ময়ূর, টিয়া, কাকাতুয়া ও বিভিন্ন বিদেশি প্রজাতির পাখি দেখতে আগ্রহী ছিলেন অনেকে। রামপুরা থেকে আসা মুনিয়া রহমান বলেন, পাখিগুলো খুব সুন্দর লাগছে। বিশেষ করে ময়ূর দেখার জন্যই আমি এখানে বেশি সময় কাটিয়েছি।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় খুব বেশি ঘোরাঘুরির সুযোগ থাকে না। তাই বন্ধুরা মিলে চিড়িয়াখানায় এসেছি। অনেক দিন পর এসে বেশ ভালো লাগছে।

দুপুর ১১টা পর দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। বিভিন্ন খাঁচার সামনে মানুষের উপস্থিতিও বাড়তে দেখা যায়। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মী ও আনসার সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা নাজমা বেগম বলেন, এখনকার শিশুরা মোবাইল ফোনে বেশি সময় কাটায়। বাস্তবে পশুপাখি দেখানোর জন্য সন্তানদের এখানে নিয়ে এসেছি। তারা প্রাণীগুলো দেখে অনেক কিছু জানতে পারছে।

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমান জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। আজ ছুটির শেষ দিনেও মানুষের উপস্থিতি সন্তোষজনক। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গতকাল ১ লাখের বেশি দশর্নার্থী এসেছিল, তার আগেরদিন ৮০ হাজার মত, ঈদেরদিন ১৬ হাজার মত। তবে আজ সবচেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এএইচ/এআরএম