জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
৩০ মে ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
কুড়িগ্রাম ভূরুঙ্গামারীর মোহাম্মদ গাজী ৯ জন মিলে ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর জুরাইন এলাকায় মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করেন।
এতে টাকার পাশাপাশি ৩২ কেজি মাংসও পেয়েছেন তারা। মাংসগুলো বাড়ি নেওয়ার আগেই পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় পথেই বিক্রি করে দেন।
শুক্রবার (২৯ মে) রাতে যাত্রাবাড়ি মোড়ে মাংস বিক্রি করতে তাদের দেখা গেল। হাড্ডিযুক্ত মাংস কেজিপ্রতি ৩০০ ও হাড্ডি ছাড়া মাংস ৭০০ টাকা ধরে বিক্রি করা হয়।
কথা হলে মোহাম্মদ গাজী বলেন, দুইদিন কোরবানির কাম করেছি। গতকালও বিক্রি করেছি। আজকের গুলো বাড়ি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল৷ কিন্ত নিতে নিতে মাংস পঁচে যাবে৷ তাই এখানেই বিক্রি করে দিলাম।
যাত্রাবাড়ি মোড়ে তখন আরও অনেকেই কোরবানির মাংস বিক্রি করছিলেন। পার্শ্ববর্তী এলাকায় গৃহস্থালির কাজ করেন কামরুন নাহার। তিনিও কোরবানির কাজ করে কিছু মাংস পেয়েছেন। কিছু মাংস আবার মানুষ দিয়েছেন। তাই খাওয়ার জন্য কিছু রেখে বাকীগুলোগুলো বিক্রি করছেন।
জানতে চাইলে কামরুন নাহার বলেন, মিথ্যা কথা বলে লাভ নাই। কাম করে মাংস পাইছি। মানুষেও দিছে। সেখান থেকে ফ্রেশ মাংস নিয়া আইছি। আমার মাংশ ৮০০ টাকা কেজি।
যাত্রাবাড়ি এলাকা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির মাংশ বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোথাও পলিথিন বিছিয়ে কোথাও ভ্যানে করে, আবার কোথাও ছোট টেবিল সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল মাংস, ভুঁড়ি, মাথা, পা ও হাড়।
মাংসের ধরণভেদে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দাম কম হওয়ায় ক্রেতাদের বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।
খিলগাও রেলগেট এলাকায় সাড়ে ৪ কেজি ফ্রেশ গরুর মাংস নিয়ে আসেন হাসনা বেগম। মাংস নিয়ে বসার সঙ্গে সঙ্গে ৭৫০ টাকা কেজি বিক্রি করে দেন।
কথা হলে হাসনা বলেন, আজ মা-জি মিলে সারাদিন কোরবানির কাজ করছি। টাকার সঙ্গে মাংসও দিছে। এগুলোই বেচলাম।

তিনি বলেন, এই মাংস অনেক স্বাদ হবে ৮০০ টাকা। দোকানের মাংসের মতো না। মাংসে কোন হাড্ডি নাই। দাম ৮০০ টাকা বলছি। দুইজন মিলে কেজি ৭৫০ টাকা করে দিছে।
মাংসের ক্রেতাদের একজন রায়হান। তিনি খিলগাঁও বাজার এলাকায় থাকেন। তিনি বলেন, মাংশটা অনেক ফ্রেশ। হাড্ডিও নাই৷ মাংসটা ভালো হবে মনে হচ্ছে। আর কোরবানির গরুর মাংস খেতেও ভালো লাগে। তাই কিনে নিয়েছি।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোরবানির গোশত বিক্রি করা জায়েজ নয়। কারণ কোরবানির পশু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়। তাই এর গোশত বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা ইবাদতের উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।
তবে যেহেতু কোরবানির কাজে নিয়োজিত লোকদের কাছ থেকে মাংস কিনছেন, সেহেতু এই মাংস কিনে খাওয়া যাবে বলে মনে করছেন ক্রেতাদের কেউ কেউ।
মাজেদুল নামের এক ক্রেতা বলেন, মাংস হয়ত তাকে (বিক্রেতা) খেতে দিয়েছে কেউ। কিন্তু তার কাছে এই মাংসের চেয়ে অর্থটা বেশি জরুরি। সে হিসেবে তার কাছ থেকে আমরা কিনে খেতে পারি বলে আমার মনে হয়।
এএম/এআরএম