images

জাতীয়

রমনা পার্কের শিশু চত্বরে হৈ-হুল্লোড়, আনন্দে সময় কাটে শিশুদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মে ২০২৬, ১০:৪১ এএম

কেউ মেতেছে দৌড়ঝাঁপের খেলায়, কেউ আবার লুকোচুরি কিংবা চড়ুইভাতির আনন্দে। কেউ দোলনায় দুলছে আপন খেয়ালে, আবার কেউ রাইডে চড়ে উপভোগ করছে স্নিগ্ধ বিকেল। 

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর রমনা পার্কের শিশু চত্বরে গেলে চোখে পড়ে এমনই প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশুদের হাসি-আনন্দ আর কোলাহলে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো শিশু চত্বর। অভিভাবকদের হাত ধরে আসা শিশুরা যেন নিজেদের ছোট্ট এক আনন্দভূমি খুঁজে পেয়েছে সেখানে। চারদিকে উচ্ছ্বাস, উল্লাস আর ছুটে বেড়ানোর ব্যস্ততা।

00cb8824-5c9f-47b9-9e77-9ac638347b19

মনের আনন্দে একে-অপরের সঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছে। বিনামূল্যের বিভিন্ন রাইডে চড়ে তাদের আনন্দ যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। কারও মুখে উচ্ছ্বাসের হাসি, কারও চোখে বিস্ময়ের ঝিলিক। মনে হচ্ছিল, খোলা আকাশে ডানা মেলা পাখির মতোই মুক্ত আর নির্ভার সময় কাটাচ্ছে তারা। শিশুদের এই নির্মল আনন্দে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পুরো শিশু চত্বর।

বাবা-মায়ের সঙ্গে আসেন পাঁচ বছরের শিশু জাকিয়া আফরোজ। দোলনায় দোল খেতে মেতে উঠেছে ছোট্ট শিশুটি। 

জানতে চাইলে জাকিয়া বলেন, আব্বু-আম্মুকে সঙ্গে করে নিয়ে আসছি। বাসা থেকে বের হতে পারি না। মাঝে মাঝে বের হতে মন চায়। চার দেয়ালের মধ্যে বসে থাকতে ভালো লাগে না। আব্বু-আম্মুকে মাঝে মাঝে বলি ঘুরতে নিয়ে যেতে।

এই ছোট্ট শিশুটি আরো বলেন, বাসার পাশে মাঠেও নেই খেলতে বের হব। আমাদের বেড়ে উঠার সুন্দর পরিবেশ চাই। আমরা বড় মাঠ চাই।

চার বছরের শিশুকে নিয়ে ঢাকার মালিবাগ থেকে রমনা পার্কের শিশু চত্বরে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী হাসিব বিল্লাহ ও তার স্ত্রী। 

জানতে চাইলে হাসিব বিল্লাহ বলেন, এটি আমাদের প্রথম সন্তান। মাঝে মাঝে ঘুরতে বের হই। বাবুটা ঘুরতে খুব পছন্দ করে আর ঘুরতে বের হলেই অনেক আনন্দ পায়। আর এখানে আসতে চায়। এখানে অনেক শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে খেলাধুলা করতে পারে।

শিশু চত্বরে ঘুরতে আসা আরেক শিশু রিফাত রহমান বলেন, ঘোরাঘুরি করতে ভালো লাগে। শিশু পার্ক বেশি ভালো লাগে। কারণ, এখানে আমাদের মতো সবাই ছোট।

আরেক শিশুর অভিভাবক ফারিয়া হাসান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মেয়েকে নিয়ে এখানে আসি কারণ, অনেক রকম গাছ আছে। 

পাখি ডাকে, কাঠবিড়ালি দৌড়ায়। আমার বাচ্চা এগুলো দেখতে পছন্দ করে। ওর বাবা সকালে অফিসে চলে গেলে মাঝেমধ্যে মেয়েকে নিয়ে পার্কে হাঁটি। এখান থেকেই ওর অভ্যাস হয়েছে গাছপালা ভালোবাসার।’

এসএইচ/এআরএম