নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে হাজারো মানুষ ভিড় করেন চিড়িয়াখানায়। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের ব্যস্ততা আর দর্শনার্থীদের কোলাহলে দিনভর প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো এলাকা।
শুক্রবার (২৯ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। দুপুরের পর ভিড় আরও বেড়ে যায়। চিড়িয়াখানার মূল ফটকের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। তবে ভিড় সামাল দিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী ও টিকিট কাউন্টার চালু রাখে কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রবেশের পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বিভিন্ন পশুপাখির খাঁচার সামনে ছড়িয়ে পড়ে। বাঘ, সিংহ, হরিণ, জিরাফ, হাতি, জলহস্তী ও বানরের খাঁচার সামনে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। শিশুদের অনেকেই প্রাণীগুলো দেখে আনন্দে চিৎকার করে উঠছিল। কেউ ছবি তুলছিলেন, কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। আবার অনেকে পরিবার নিয়ে গাছের নিচে বসে সময় কাটাচ্ছিলেন।

চিড়িয়াখানার ভেতরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। খাবারের দোকান, খেলনার স্টল ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছেও ছিল মানুষের ভিড়। বিশেষ করে শিশুদের খেলনা, বেলুন ও মুখরোচক খাবারের প্রতি আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
মোহাম্মদপুরের বসিলা এলাকা থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সারা বছর কাজের চাপ থাকে, বাচ্চাদের সময় দেওয়া হয় না। ঈদের ছুটিতে তাই ওদের নিয়ে একটু ঘুরতে বের হয়েছি। চিড়িয়াখানায় এলে বাচ্চারা আনন্দও পায়, আবার নতুন অনেক প্রাণী সম্পর্কেও জানতে পারে।
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে এসেছেন জাতীয় চিড়িয়াখানায়। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকায় তেমন কিছু করার থাকে না। তাই আজ সবাই মিলে এখানে এসেছি। অনেক দিন পর চিড়িয়াখানায় এলাম। পরিবেশটা বেশ প্রাণবন্ত লাগছে।
মিরপুর-১২ থেকে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আসা গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, বাচ্চারা কয়েক দিন ধরেই চিড়িয়াখানায় আসার জন্য বলছিল। আজ সকালে নিয়ে এলাম। ওরা বাঘ আর হাতি দেখে খুব খুশি। পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য জায়গাটা ভালো।
পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকা থেকে আসা কলেজশিক্ষার্থী মাহিন রহমান বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ছুটিতে একটু ঘুরতে বের হয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প মহিষটির কথা দেখে আগ্রহ হয়েছিল। কাছ থেকে দেখে ভালো লাগছে।
দর্শনার্থীদের মধ্যে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। অনেকেই বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। কেউ কেউ আবার ঈদের আনন্দটুকু স্মরণীয় করে রাখতে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। চিড়িয়াখানার বিভিন্ন স্থানে বসে পরিবার নিয়ে আড্ডা দিতেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।
এদিকে এবারের ঈদে জাতীয় চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোরবানির পশু হিসেবে আলোচনায় আসা মহিষটি বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে। ফলে মহিষটির খাঁচার সামনে দিনভর ছিল দর্শনার্থীদের বাড়তি ভিড়। অনেককে মহিষটির সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গেছে।
খিলগাঁও থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী তানজিলা ইসলাম বলেন, অনেক দিন পর চিড়িয়াখানায় এলাম। ছোটবেলার স্মৃতিগুলো আবার মনে পড়ে গেল। আজ মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি, তবে উৎসবমুখর পরিবেশটা ভালো লাগছে।

চিড়িয়াখানার নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকে। দুপুরের পর ভিড় আরও বৃদ্ধি পায়। তবে কোথাও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
চিড়িয়াখানার ভেতরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও তৎপরতা দেখা গেছে। কর্মীরা নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করছিলেন। দর্শনার্থীদের নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ডও লাগানো হয়েছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ঈদের সময় প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের চাপ বাড়ে। এবারও সকাল থেকেই প্রচুর মানুষ আসছেন। আজ বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি। প্রতি বছরের মতো এবারও লক্ষাধিক মানুষ চিড়িয়াখানায় আসতে পারেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও সেবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অতিরিক্ত জনসমাগম সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
এএইচ/এআর