images

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর অন্যরকম ঈদ উদযাপন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৮ মে ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশে ঈদ উদযাপন করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ঈদুল ফিতরের ধারাবাহিকতায় এবার ঈদুল আজহাতেও সরকারপ্রধানকে দেখা গেল ভিন্ন এক আবহে।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, ব্যস্ততা ও কঠোর প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে ঈদের দিনে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে মানবিক সংযোগকেই প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে তাকে।

একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, বাবা-মা, ছোট ভাই, শ্বশুর ও বিডিআর বিদ্রোহে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, অপরদিকে দিনভর যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী পেছন থেকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন তিনি। প্রটোকল ভুলে সবাইকে বুকে টেনে নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন সরকার প্রধান।

বুধবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান জামাতে অংশ নিতে উপস্থিত হন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। সেখানে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

86544a05-d3bc-4b63-995d-849aaf9544e5

তবে প্রটোকলের গণ্ডি ভেঙে তার চেনা রূপটি দেখা যায় নামাজের পরপরই। ঈদগাহে উপস্থিত সাধারণ মানুষের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রটোকল ভেঙে সাধারণ জনতার সঙ্গে হাত মেলান এবং ঈদের শুভেচ্ছা ভাগাভাগি করেন তিনি; যা উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ জোগায়।

এরপর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে পাশে বসিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে যান মা-বাবার স্মৃতিবিজড়িত শেরেবাংলানগরে।  যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। 

মা-বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পরম শ্রদ্ধায় ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করেন তিনি। জীবনের অন্যতম এই আবেগময় মুহূর্তে তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী। সেখানেও তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

শেরেবাংলানগর থেকে প্রধানমন্ত্রী যান বনানী কবরস্থানে। সেখানে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো এবং শ্বশুরের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তারেক রহমান।

সেখান থেকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন সরকার প্রধান। তবে সেখানে তিনি কেবল সরকার প্রধান নন, বরং হয়ে ওঠেন এক আন্তরিক অভিভাবক। ঈদের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তার কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে একান্তে কিছুটা সময় কাটান তিনি।

এ সময় ব্যস্ত জীবনের সব ক্লান্তি ভুলে প্রেস উইং টিমের সদস্য ও ব্যক্তিগত স্টাফদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু আনুষ্ঠানিক করমর্দনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি এই মিলনমেলা; উপস্থিত সবার সঙ্গে পরম মমতায় কোলাকুলি করেন তিনি।  প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে এবং তার এমন আন্তরিক আতিথেয়তায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিইউ/এআরএম