জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৮ মে ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানার গয়াল, মায়া হরিণ ও চিতাবাঘের পাশের ৭ নম্বর সেডে রাখা হয়েছে বিরল অ্যালবিনো জাতের আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে। বিশ্বব্যাপী ভাইরাল হওয়া বিরল প্রজাতির মহিষটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে চিড়িয়াখানায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সদৃশ মহিষটি দেখতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
মহিষটি গতকাল বুধবার (২৭ মে) প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসা হয়। পাশাপাশি মহিষটি নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও সঠিক পরিচর্যার জন্য সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় আনার বিষয়টি তত্ত্বাবধান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মহিষটির জন্য বড় শেড প্রস্তুতের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
বুধবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, আজ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা যুক্ত হয়েছে। বিরল ‘অ্যালবিনো’ প্রজাতির একটি মহিষ ইতোমধ্যে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষণের জন্য আনা হয়েছে।
টুকু আরও লেখেন, বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিষটির শরীরে ‘মেলানিন’ নামক রঞ্জক পদার্থের স্বল্পতার কারণে এমন গোলাপি বর্ণের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। পৃথিবীব্যাপী এ ধরনের প্রাণী অত্যন্ত বিরল।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০ হাজার মহিষের মধ্যে মাত্র একটি এ ধরনের অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্ম নিতে পারে। ফলে এটি শুধু একটি বিরল প্রাণীই নয়, বরং গবেষণা, সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
তিনি বলেন, আমি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও অবগত করেছি। তিনি এ ধরনের বিরল প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগকে গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
৮ মাস আগে রাজশাহী থেকে কিনে এনে অ্যালবিনো জাতের মহিষটি নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়ায় রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে লালন-পালন করা হয়। মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় খামারের মালিক জিয়াউদ্দিন মৃধার ছোট ভাই আদর করে নাম রাখেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
মহিষটির ওজন ৭০০ কেজি ওজন। আলোচিত মহিষটিকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান সামির। সে হিসেবে মহিষটির দাম পড়েছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী টুকু উল্লেখ্য করেন, মহিষটির ক্রেতা মনিরুজ্জামানকে তার পশুর ন্যায্য মূল্য প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির জন্য বিকল্প গরুরও ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
তিনি আরও লেখেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ, প্রাণিসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস, বিরল এই অ্যালবিনো মহিষ শুধু দেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই হবে না, ভবিষ্যৎ গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মানুষ, প্রকৃতি ও প্রাণিসম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।
মহিষটির চুল ও চোখ দেখতে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মতো হওয়ায় মহিষটিকে নিয়ে প্রথমে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে খবর হয় বহির্বিশ্বে।
এএফপি, রয়টার্সসহ প্রায় সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রাণীটিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর মহিষটি বিশ্বব্যাপী আলোচিত হয়।
এরমধ্য গত সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় কোরবানির জন্য কেনা মহিষটি নিতে খামারে যান ক্রেতা। খামারিরা মহিষটিকে গোসল করিয়ে রাজকীয় পোশাক পরিয়ে হরেক রঙের স্মোক উড়িয়ে লাল গালিচায় হাঁটিয়ে বিদায় জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ফার্মের মালিকপক্ষ ও লোকজন পশুটিকে বিদায় জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরে মহিষটিকে কেরানীগঞ্জের বাসায় নেওয়ার পর থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান। দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে মহিষটিকে ঘরের ভেতরে রাখতে বাধ্য হন ক্রেতা।
পরে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ হস্তক্ষেপে পুলিশ মহিষটিকে কেরানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানেও অনেক দর্শনার্থী মহিষটিকে দেখতে যান। এরপর রাতে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পে’কে মিরপুরে চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়।
এএম/এআরএম