images

জাতীয়

হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৮ মে ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জামাতে অংশ নেন। ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।

ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিরা রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন।

eid-1মুসল্লিদের অনেকের গায়ে নতুন পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি ছিল। জায়নামাজ আনতে বারণ করলেও অনেকে এনেছেন। কেউ আবার সঙ্গে করে পানির বোতল ও ছাতা নিয়ে আসেন, কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। সব বয়সী মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদগাহ এলাকা পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

শিশু-কিশোররাও অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদগাহে এসেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে প্রবেশের সময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা নির্ধারিত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।

প্রধান ঈদ জামাতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ছিল জাতীয় ঈদগাহ ময়দান

নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান ফটকে বসানো আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলেন, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে।

eid-2মাঠের বাইরে পুলিশের পাশাপাশি ছিল র‌্যাব, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, এসবি, এনএসআই, ডিবি ও সিআইডির সদস্যরা। বাইরে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রস্তুত ছিল ফায়ার সার্ভিস, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, জল কামান।

সংগ্রাম নামে দায়িত্বরত এক পুলিশ জানান, ‘এই এলাকাতে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তবে একই গতকাল ডিএমপি কমিশনারও জানিয়েছিল।’

এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দায়িত্ব পালন করছে। তাদের মধ্যে একটি জাতীয় ঈদগাঁহের সামনে, আরেকটি ছিল দক্ষিণ গেটে।

eid-3মারুক নামে ফায়ার সার্ভিসের এক টিম লিডার ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘তারা ১৫ জন এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। তারা অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রস্তুত আছেন।’

মুগদা থেকে আসা নিজাম নামে এক মুসল্লি বলেন, জাতীয় ঈদগাঁহের এমন নিরাপত্তা আগে খুব দেখিনি। এবার এসে নতুন অভিজ্ঞতা হলো।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নামাজ আদায় করায় মৎস ভবন মোড় থেকে জাতীয় ঈদগাঁহে আসার পথটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে রমনা ও শাহবাগ থেকে আসা গাড়িগুলো শিল্পকলা একাডেমির সামনের রাস্তা ব্যবহার করে জাতীয় ঈদগাঁহের দিকে যায়।

তবে জাতীয় ঈদগাঁহ এলাকা ছাড়াও পল্টন মোড়, মৎস ভবন মোড়, হাইকোর্ট মোড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। জাতীয় প্রেসক্লাবে আসা-যাওয়ার পথে ব্যারিকেড দিয়ে এক পাশে ফাঁকা রেখে কয়েকটি লাইনে দাঁড়িয়ে মুসল্লিদের জাতীয় ঈদগাঁহে ঢোকানো হয়।

pm-1_জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে মূল প্যান্ডেলের আয়তন ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশপাশের সড়কেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

এবার জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতার রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকছে।

সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

eid-5জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের কাঠামো দাঁড় করাতে লেগেছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। এই কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় টাঙানো হয়েছে ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল। মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি টিউবলাইট জ্বলবে।

গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা আছে। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়েছে। ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, জায়নামাজ সঙ্গে আনার প্রয়োজন নেই।

eid-6ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মোট চারটি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে সহজে বের হতে পারেন, সে জন্য সাতটি বহির্গমন পথও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অজুর ব্যবস্থাও আলাদা করে করা হয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে ১১৩ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার, সুপেয় পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এমআইকে/এএম/এমআর