নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ মে ২০২৬, ০৭:১৬ এএম
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে সাতটায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভোর থেকেই মুসল্লিরা রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করছেন।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে পল্টন মোড়, মৎস্য ভবন এবং হাইকোর্টের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করছেন। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রান্তেও দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে।
ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসতে থাকেন মুসল্লিরা। অনেকের গায়ে নতুন পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি। জায়নামাজ আনতে বারণ করলেও অনেকে এনেছেন। কেউ আবার সঙ্গে করে পানির বোতল ও ছাতা নিয়ে আসেন, কারণ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। সব বয়সী মুসল্লির উপস্থিতিতে ঈদগাহ এলাকা পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।
শিশু-কিশোররাও অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদগাহে এসেছে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঠে প্রবেশের সময় দেখা যায়, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিরা নির্ধারিত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছেন।
প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। এছাড়া রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, বুদ্ধিজীবী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে শরিক হবেন।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঈদগাহে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান ফটকে বসানো আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশি করে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে ছিলেন, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জামাত অনুষ্ঠিত হতে পারে।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের আয়তন প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার। এর মধ্যে মূল প্যান্ডেলের আয়তন ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আশপাশের সড়কেও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারবেন।
এবার জাতীয় ঈদগাহে ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাতার রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকছে।
সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও ৩ হাজার ৫০০ নারীর জন্য জায়গা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্যান্ডেলের কাঠামো দাঁড় করাতে লেগেছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ। এই কাঠামো মজবুত রাখতে ব্যবহার করা হয়েছে ১৫ টনের বেশি রশি। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষায় টাঙানো হয়েছে ১ হাজার ৯০০টি উন্নত মানের ত্রিপল। মাঠ আলোকিত রাখতে ৯০০টি টিউবলাইট জ্বলবে।
গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে প্যান্ডেলের ভেতরে ১ হাজার ১০০টির বেশি ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অংশে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা আছে। পুরো মাঠে কার্পেট বিছানো হয়েছে। ডিএসসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, জায়নামাজ সঙ্গে আনার প্রয়োজন নেই।
ঈদগাহে প্রবেশের জন্য মোট চারটি ফটক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি এবং সাধারণ মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ থাকছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা যাতে সহজে বের হতে পারেন, সে জন্য সাতটি বহির্গমন পথও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য একটি পথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অজুর ব্যবস্থাও আলাদা করে করা হয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ১৪০ জন অজু করতে পারবেন। এর মধ্যে ১১৩ জন পুরুষ ও ২৭ জন নারী। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার, সুপেয় পানি, প্রাথমিক চিকিৎসা, অগ্নিনির্বাপণ–ব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, মুসল্লিরা যাতে স্বস্তি নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টি হলে জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে ঈদের জামাত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে।
এমআর