জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর অলিগলি, মোড় আর পশুর হাটজুড়ে এখন জমে উঠেছে কোরবানির পশু ঘিরে নানা ধরনের ব্যবসা। গরু-ছাগলের হাটের পাশাপাশি দেদারছে বিক্রি হচ্ছে গো-খাদ্য। আর এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ছে কাঁঠাল গাছের পাতা। ছোট ছোট একেকটি থোকা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। কয়েকটি পাতার এমন দাম দেখে মনে হচ্ছে এসব যেন পাতা নয়, থোকায় থোকায় টাকা ঝুলছে!
রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা, কমলাপুর, বাড্ডা, হাতিরঝিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ছাগলের হাটের আশপাশেই বসেছে কাঁঠালপাতা, ঘাস, খড়, ভুসি ও খৈলের অস্থায়ী দোকান। কেউ ভ্যানে, কেউ ফুটপাতে, আবার কেউ সড়কের পাশে ছোট ট্রাক থামিয়ে বিক্রি করছেন এসব গো-খাদ্য।
বিশেষ করে ছাগলের জন্য কাঁঠালপাতার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট আঁটি বা থোকা আকারে এসব পাতা বিক্রি করতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে।
মালিবাগ রেলগেট এলাকায় কাঁঠালপাতা বিক্রেতা রিয়াজুল জানান, ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছের পাতা সংগ্রহ করে তারা ঢাকায় নিয়ে আসেন। সারাদিনে শত শত থোকা বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ছাগল কিনে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে পাতা কিনে নিচ্ছেন, কারণ বাসায় নেওয়ার পর খাবার লাগবে। তাই চাহিদা অনেক।
এই এলাকার কয়েকজন ক্রেতা জানান, কয়েকটি পাতার আঁটির জন্য ৫০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। কিন্তু ছাগলের জন্য প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়েই কিনছেন তারা।

শুধু কাঁঠালপাতাই নয়, কাঁচা ঘাস, খড়, গমের ভুসি, খৈল ও বিভিন্ন ধরনের গো-খাদ্যেরও ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতি আঁটি কাঁচা ঘাস ২০ থেকে ৪০ টাকা, খড় ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং কাঁঠালপাতার ছোট আঁটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, ঈদকে ঘিরে এই কয়েকদিনই তাদের মূল ব্যবসার সময়। বছরের অন্য সময় তারা কেউ কৃষিকাজ, কেউ দিনমজুরি করেন। তবে কোরবানির ঈদ এলেই অস্থায়ীভাবে গো-খাদ্য বিক্রিতে নেমে পড়েন।
মালিবাগ এলাকায় ভ্যানে করে ঘাস বিক্রি করা সিফাত বলেন, এই কয়েকদিন যা আয় হয়, তা দিয়েই ঈদের খরচ চলে যায়। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি করছি।
রাজধানীর বিভিন্ন ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতাই পশু কেনার পাশাপাশি খাবারও কিনে নিচ্ছেন। কারণ ঈদের আগে বাসায় পশু রাখলে খাবারের ব্যবস্থা করতেই হচ্ছে।
টিএই/এআর