images

জাতীয়

ঘাস, খড় ও ভুসিতে ভরে উঠেছে ঢাকার অলিগলি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মে ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির এই উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকার অলিগলি, সড়কের ধারে ও খালি জায়গাগুলো এখন রূপ নিয়েছে পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীর মৌসুমি বাজারে। 

রাজধানীর কোথাও ট্রাকভর্তি সবুজ ঘাস, কোথাও আবার ফুটপাতজুড়ে খড়, ভুসি, খৈল, কাঁঠাল পাতা ও খাটিয়া সাজিয়ে বসেছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ঈদকে কেন্দ্র করে এই বাজারে যেমন বাড়ছে বেচাকেনা, তেমনি বাড়ছে দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগও।

2

রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মৌচাক, বাড্ডা, মিরপুর, কাজীপাড়া ও কালশীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মোড়েই কোনো না কোনোভাবে পশুখাদ্যের অস্থায়ী দোকান বসেছে। কোথাও ছোট ভ্যান, কোথাও বাঁশের কাঠামো তৈরি করে খড়-ঘাস বিক্রি চলছে। আবার কিছু জায়গায় সরাসরি রাস্তার ওপর ট্রাক দাঁড় করিয়ে খোলা আকাশের নিচেই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পথচারীদের চলাচলে কিছুটা বাধা তৈরি হলেও ঈদকেন্দ্রিক এই বাজার এখন পুরোপুরি জমজমাট।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করেই তাদের এই মৌসুমি ব্যবসা। সারাবছর অন্য কাজ করলেও এই সময়টায় পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক জিনিস বিক্রি করেই তারা বাড়তি আয় করেন। এক ট্রাক ঘাস বা খড় এনে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে জানান অনেকে। চাহিদা বেশি থাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাদের। কেউ কেউ বলছেন, আগে থেকে মজুত না থাকায় অনেক সময় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

3

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি আঁটি সবুজ ঘাস ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খড়ের দাম মান ও পরিমাণ ভেদে ছোট গাদা হিসেবে ২৫ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। আবার কেজি হিসেবে খড় বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকায়। গরু মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত ভুসির দামও বেড়েছে। গমের ভুসি প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৬০ টাকা এবং চালের কুঁড়া ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খৈলের দামও কেজিতে ৭০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

পশুর খাবারের পাশাপাশি কাঁঠাল পাতার চাহিদাও এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ছাগল ও ভেড়া পালনের সঙ্গে যুক্ত ক্রেতারা কাঁঠাল পাতা কিনছেন বেশি। বাজারে কাঁঠাল পাতার আঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, শহরের ভেতরে এই পণ্যের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

4

একজন মৌসুমি বিক্রেতা নূরুল হক জানান, তিনি আগে সবজি বিক্রি করতেন, এখন পশুখাদ্যের দোকান দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সময়টা আমাদের জন্য সুযোগ। সারা বছর এমন বিক্রি হয় না। সকালে ট্রাকভর্তি ঘাস এনে দুপুরের মধ্যেই প্রায় অর্ধেক বিক্রি হয়ে যায়। তবে পরিবহন খরচ ও চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বাড়াতে হচ্ছে।

দিনমজুর আরেক বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কাজ কমে গেছে। তাই তিনি পশুখাদ্য বিক্রি শুরু করেছেন। দিনে যা বিক্রি হচ্ছে, তাতে সংসার চালানোর মতো আয় হচ্ছে। আবার অনেকেই মৌসুমি এই বাজারে কাজ খুঁজে নিচ্ছেন। 

5

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, ঈদ এলেই এই বাজারে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে ঘাস, খড় ও ভুসির দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে এক লাফে বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ, পরিবহন ব্যয় এবং হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে দাম কিছুটা বাড়ে, এতে তাদের তেমন বেশি লাভ হয় না।

কাজিপাড়া এলাকার একজন ক্রেতা ইয়াসিন আলী বলেন, কোরবানির আগে পশু কেনা যতটা কষ্টের, তার চেয়ে কম কষ্টের নয় এসব জিনিস কেনা। গরু কিনে আনার পর খাবার, দড়ি, খাটিয়া সব মিলিয়ে আলাদা খরচ তৈরি হয়। তিনি বলেন, আগে এসব দাম তুলনামূলক কম ছিল, এখন সবকিছুই অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

7

ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এবার রাজধানীতে মোট ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি গাবতলী ও সারুলিয়ায় রয়েছে দুটি স্থায়ী হাট। সব মিলিয়ে ২৬টি হাট কেন্দ্র করে ঈদের বাজার পরিচালিত হচ্ছে। 

তবে এসব হাটের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় পশু ও পশুখাদ্যের অনানুষ্ঠানিক বাজার গড়ে উঠেছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।

এএইচ/এএইচ