images

জাতীয়

বাচ্চারা যখন কান্না করছিল তখন কাউকে খুঁজে পাননি স্বজনরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৭ মে ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

আদ্ দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর আগে হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা সকল শিশু ও নবজাতকরা একযোগে কান্না শুরু করেছিল। তখন রাত ৩টা। এসিও বন্ধ ছিল। শিশুরা কেন কান্নাকাটি করছে এবং এসি কেন বন্ধ ছিল সেটি জানানোর জন্য ওই সময় ওই ওয়ার্ডে কাউকেই খুঁজে পাননি নিহত শিশুদের স্বজনরা।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেল, দুই স্বজন মৃত নবজাতক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের একজন এমন কথা জানান। 

মুন্সিগঞ্জ থেকে এসেছিলেন আরিফ ও মিম দম্পতি। ছয় শিশুর মধ্যে তাদের তিন দিনের নবজাতকও ছিল।

এ সময় আরিফের মা নবজাতকের দাদী নাসিমা বলেন, আমার নাতির কোনো সমস্যা ছিলো না। আজ রাতে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। আমরা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলাম। সেখানে ১০ থেকে ১৩টা বাচ্চা ভর্তি ছিল। হঠাৎ রাত ৩টার দিকে সব বাচ্চা কান্না শুরু করে। কিন্তু কি কারণে কান্না করছে আমরা বুঝতে পারছিলাম না। তখন আমরা কাউকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এরপর সকালে একে একে সব বাচ্চা মারা যায়।

দোহার থেকে ছেলের বউকে নিয়ে এসেছিলেন জানু বেগম। মৃত নাতিকে কোলে নিয়ে কান্না করছিলেন তিনি। তিনি আহাজারি করে বলছিলেন, সব শেষ হইয়া গেল গা৷ 

এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদেরকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের ডিজি।

অন্যদিকে এ ঘটনায় আদ্ দ্বীন হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোর মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্য অনেক কষ্টদায়ক। ঘটনাটি একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ’ (দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু)। আমরা কারণগুলো খতিয়ে দেখছি, আমাদের সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞও রয়েছেন, তার সঙ্গে কথা বলছি।

এমআইকে/এফএ