নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ মে ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
ঈদযাত্রায় উত্তরের পথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের কারণে দূরপাল্লার বাস ধীরগতি দেখা গেছে।
ঈদের দুদিন আগে ঘরমুখী মানুষের চাপের পাশাপাশি টানা বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুপুর ১২টার পর ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এই জেলাগুলোর সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের প্রধান সড়কগুলো যুক্ত।
তবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। বিপরীতে উত্তরের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৭ জেলায় সড়কে ১২ জনের প্রাণহানি
ঘরমুখী মানুষের চাপ ও টানা বৃষ্টির কারণে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। রাত ৯টার দিকে গুগল ম্যাপে দেখা যায়, মহাখালী থেকে টঙ্গী, গাজীপুর বোর্ডবাজার হয়ে চন্দ্রা পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। টাঙ্গাইলের দিকে কিছুটা যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও যমুনা সেতুর আগে আবারও ধীরগতি দেখা যায়।
অন্যদিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। ফলে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যানবাহন চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সকাল পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। বিশেষ করে, কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা ও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়।
অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কের পাশে পরিবহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাসসংকটের কারণে কেউ কেউ খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ভারী বৃষ্টিতে এসব যাত্রীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এ ছাড়া কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্তও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে থেমে থেমে যান চলাচল করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী মানুষ।
এআরএম