মোস্তাফিজুর রহমান
২৬ মে ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটে ৫২টি গরু নিয়ে এসেছেন ঝিনাইদহের তিশান তানিশা এগ্রো ফার্মের কর্ণধার খামারী তোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত পর্যন্ত তার ছোট ও মাঝারি সাইজেট ২০টি গরু বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বড় সাইজের ৩২টি গরু অবিক্রিত রয়ে গেছে।
কোরবানি হাটের আর একদিন বাকি। অথচ, এখনো এতোগুলো বড় সাইজের গরু বিক্রি না হওয়ায় চিন্তায় পড়ে গেছেন এই খামারী।
কথা হলে তোজাম্মেল বলেন, হাটে বড় গরুর কাস্টমার কম। বেচাকেনা নাই। ২০টা ছোট সাইজের গরু বিক্রি করেছি। এগুলো তেমন লাভটাভ হয়নি। খরচ উঠাতে হবে তাই ছেড়ে দিছি। কিন্তু বড়গুলোর কাস্টমারই নাই। মানুষ আসে দেখে দাম শুনেই চলে যায়।
শাহজাহানপুরের হাটে আসা কুমিল্লা মেঘনা এলাকার মোহাম্মদ রমজান আলির পরিস্থিতিও একই। কিছু ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু বিক্রি হলেও বড় গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। বিশেষ করে তার বড় সাইজের ফিজিয়ান ও সাইওয়াল জাতের গরু দুটির কাস্টমার পাচ্ছে না।
রমজান আলি বলেন, কালো রঙের ফিজিয়ান গরুটির ওজন ৮০০ কেজির বেশি। শুরুতে ৭ বলেছিলাম। পরে ৬ লাখ। লস হবে তারপরও আজ ৫ লাখ বলছি কিন্তু লোকে দাম বলে অনেক কম। ৭০০ কেজি ওজনের সাইওয়াল গরুর অবস্থাও একই। সাড়ে ৬ থেকে এখন সাড়ে ৪ লাখ দাম বলছি কিন্তু কেউ অর্ধেকও বলে না। আসলে কিনবে এমন কাস্টমার আসে না। হাটের একদিন আছে, এই সময়ে বিক্রি করতে পারবো কিনা এই নিয়েই চিন্তায় আছি।
শাহজাহানপুরের হাট ঘিরে দেখা যায়, ছোট থেকে মাঝারি গরুর প্রতিই বেশি চাহিদা। এ ধরনের গরু বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভালো। কিন্তু বড় সাইজের গরুতে তেমন আগ্রহ নেই। ফলে সময় ফুরিয়ে আসলেও বড় গরুগুলো অবিক্রিতই থেকে যাচ্ছে।
হাটটিতে আগত ব্যাপারী ও খামারীরা বলছেন, মূলত ২ লাখ টাকার নিচের গরুর চাহিদা বেশি। বিশেষ করে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজারের মধ্য গরুগুলো বেশি বিক্রি হয়েছে। ২ লাখ থেকে আড়াই লাখের মধ্য কিছু গরু বিক্রি হলেও এর ওপরের গরু বিক্রি একেবারেই কম।
চুয়াডাঙ্গার পলাশ ব্যাপারী ১৭টা গরু নিয়ে এসেছিলেন হাটে। ১৩টা বিক্রি করেছেন মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত। এখন বাকি আছে ৪ টা।
পলাশ বলেন, যেগুলো বিক্রি হয়েছে সেগুলো ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার গরু ছিল। লাভ বলতে ভালো না খারাপও না। কিন্তু বড় ৪টি গরু এনেছি। এগুলো বিক্রি করতে পারছি না। এগুলোর ওপরই এখন লাভ লস নির্ভর করছে। হাটে কাস্টমারের যে পরিস্থিতি তাতে এবার আর সুবিধা হবে বলে মনে হয় না।
কুষ্টিয়ার ব্যাপারী গিয়াস উদ্দিনের ছোট ও মাঝারি ধরণের ১০টি গরু বিক্রি হয়েছে। এখন ৫টি বড় সাইজের গরু নিয়ে সময় গুনছেন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, ১৫ টার মধ্য বড় ৫ টা গরুই রয়ে গেছে। এই গরুগুলো নিয়ে অনেক আশা ছিল। ছোট গরুগুলো এনেছি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ উঠানোর জন্য। এখন বড় গরুগুলো বিক্রি না হলে বিরাট লস হয়ে যাবে।
১৬০০ কেজি ওজনের ‘কালোপাহাড়’ ও ১০০০ কেজির ‘সাদাপাহাড়’ নামের দুটি গরু নিয়ে নড়াইলের খামারী শহিদুল ইসলামের কপালে চিন্তার ভাঁজ। এই দুটিসহ তিনি মোট ২৬ গরু এনেছেন হাটে। কিছু ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু বিক্রি করতে পারলেও বড়গুলো সবই অবিক্রীত রয়ে গেছে।
কথা হলে শহিদুল বলেন, বড় গরুর কাস্টমারই নাই। যারা দাম করে তারা নেওয়ার জন্য করে না। আমরা বড় গরু অনেক কমে দিতে চাচ্ছি। শখ করে নিজের খামারে পালছি, কিছু লোকসান হলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু নেওয়ার মতো কাস্টমার পাচ্ছি না।
হাট ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ব্যাপারীরই বড় সাইজের গরু নিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু ক্রেতার দেখা মিলছে না।
কথা হলে হাটটির পরিচালক মির্জা আসলাম পারভেজ ঢাকা মেইলকে বলেন, বাজার মন্দা। কাস্টমারও কম। তিনি বলেন, অন্য বছর এমন সময় এই হাট প্রায় খালি হয়ে যায়। কিন্তু এবার হাটের সব গরুই রয়ে গেছে।
এএম/এআরএম