জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ মে ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
বৃষ্টিতে রাজধানীর কোরবানি পশুর হাট কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় গরু স্থানান্তরে বেকায়দা পড়েছেন ক্রেতারা। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন মৌসুমী শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৬) বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘ ক্লাব সংলগ্ন হাটের প্রধান ফটকের সামনে মাঝারি ধরণের একটি দেশি ষাঁড় গরু ক্রেতাদের হাত ফসকে যায়৷ কাঁদায় পিচ্ছিল সড়কে গরুটি আর নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিলেন তারা।
পরে দুজন লোক এসে গরুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আটকে ফেলে। এরপর গরুটি আলোচনা সাপেক্ষে ৯০০ টাকায় বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করে ওই দুই কর্মী।
জানতে চাইলে জাকির মিয়া নামের গরুটির ক্রেতাদের একজন বলেন, চারজন মিলে হাটের ভেতর থেকে বের করে নিয়ে আসছি। কিন্তু বাইরে এনে আর ধরে রাখা যায়নি। এখন লোক ভাড়া করে নিয়ে আসছি।

হাটটি ঘুরে দেখা যায়, গরু পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন বহু মৌসুমী কর্মী। কোনো গরু দরদামে বনাবনি হলেই হামলে পড়ছেন তারা। অনেকে খোঁজ করেও কর্মী ভাড়া করছেন।
সংশ্লষ্টরা বলছেন, এমনিতেই প্রতিবছর মৌসুমী কর্মী হিসেবে অনেকেই কাজ করেন। তবে এবার বৃষ্টিতে হাটের বেহাল পরিস্থিতির কারণে তাদের চাহিদা বেড়েছে বহুগুনে।
মৌসুমী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা গরুর সাইজ ও দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে চুক্তিবদ্ধ হোন। এক্ষেত্রে প্রতিটি গরুর জন্য ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত পান।
খিলগাও কাঁচাবাজারে লেবার হিসেবে কাজ করেন সুনামগঞ্জের রবি আউয়াল রনি ও ময়মনসিংহের আব্দুল আজিজ।
হাট থেকে গরু পৌছে দেওয়ার লোকের চাহিদা বাড়ায় মঙ্গলবার এই কাজে নেমে পড়েন তারা। কাজও করছেন একসঙ্গে।
কথা হলে রবি আউয়াল রনি বলেন, গরু ও জায়গা বুঝে টাকা নেই। কম করে হলেও ৫০০ টাকা পাই। এই টাকা আবার দুই ভাগ হয়। কারণ একজনে গরু নেওয়া যায় না। দুজন লাগে।

আব্দুল আজিজ বলেন, বাসা দূরে হলে এবং গরু বড় হইলে ১৫০০ টাকাও নেই। এই টাকা খুশি হইয়ায় দেয়।
নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজারের মাহবুব হোসেন ও মো. নাঈমকে দেখা যায় এক সঙ্গে কাজ করতে। ছোট সাইজের একটি দেশি ষাঁড় গরু হাট থেকে তারা রাস্তায় বের করে দেন।
জানতে চাইলে মাহবুব বলেন, গরুটি রাস্তা পর্যন্ত এনে দেওয়ায় ৩০০ টাকা পেয়েছেন।
নাঈম বলেন, তারা হাটের পাশেই থাকেন। স্থানীয় একটি ফার্নিচার দোকানের মালামাল আনা নেওয়ার কাজ করেন। গরু নেওয়ার লোকের চাহিদা হওয়ায় এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।
এএম/এআরএম