জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। রাজধানীসহ সারাদেশে এখন পুরোদমে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হাটগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। তবে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও তৈরি হচ্ছে ভোগান্তিও।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে রাজধানীর কমলাপুর পশুর হাটে সরেজমিন ঘুরে এমনটাই দেখা যায়।
এদিন সকাল থেকেই এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি। দুপুরের পর বৃষ্টি শুরু হলে হাটের ভেতরের কাঁচা অংশে কাদা-পানিতে চলাচলে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। তবু থেমে থাকেনি বেচাকেনা। ছাতা ও পলিথিন মাথায় নিয়েই চলছে গরু দেখার হিড়িক, দরদাম আর কেনাবেচা।

হাটে বড়, মাঝারি ও ছোট— সব ধরনের কোরবানির পশুই উঠেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারিরা নিজেদের পশু সাজিয়ে রেখেছেন আলাদা আলাদা সারিতে। ক্রেতারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাট ঘুরে ঘুরে দেখছেন, যাচাই করছেন দাম ও স্বাস্থ্য।
হাটে কথা হয় খিলগাও থেকে আসা ক্রেতা রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হলেও আসতে হয়েছে, ঈদের আর একদিন বাকি। পছন্দের গরুটা খুঁজছি, একটু দাম বেশি হলেও ভালো পশু নিতে চাই।’
অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারি হারুন জানান, ‘বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও বেচাকেনা মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ক্রেতা আছে, তবে বৃষ্টি পড়লে হাঁটাচলায় কষ্ট হয়। তারপরও ঈদের আগে শেষ সময় বলে বিক্রি হচ্ছে।’

হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শেষ সময় হওয়ায় আজ ও আগামীকাল ক্রেতার চাপ আরও বাড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ভোগান্তি কমাতে কিছু জায়গায় অস্থায়ী মাচা ও কভারিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এদিকে পশুর হাট ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। প্রতারণা, অতিরিক্ত দাম হাঁকা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এড়াতে নিয়মিত টহল দিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় মোট ২৭টি পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় রয়েছে ১১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬টি হাট।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাট। একদিকে মুগদা বিশ্বরোড হয়ে মানিকনগর টিটিপাড়া স্টেডিয়াম, আন্ডারপাস হয়ে মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন দিয়ে বড় এলাকাজুড়ে এই হাটের আয়তন।
টিএই/এএইচ