জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ মে ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
ফাঁকা হচ্ছে ব্যস্ত নগরী। ফলে রাজধানী ঢাকায় এখন ঈদের আমেজ। শহরের সড়কগুলোতে নেই চিরচেনা যানজট। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ উপভোগ করতে ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। ঈদের এই যাত্রা অব্যাহত থাকবে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর রাজপথ থেকে অলিতেগলি কমে গেছে মানুষের কোলাহল। ব্যস্ত সড়কগুলোতেও আগের মতো বিরক্তিকর সেই যানজট এখন আর চোখে পড়ছে না। কমেছে যানবাহনের অসহনীয় শব্দ ও কালো ধোঁয়াও। অফিসের তাড়া নেই, নেই গণপরিবহনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, কাকরাইল, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নগরবাসীর ‘আড্ডাখানা’ হিসেবে খ্যাতি আছে ঢাকার বেইলি রোড। এটি ‘নাটক সরণি’ নামেও সুপরিচিত। ফাস্ট ফুড, স্ট্রিট ফুড, কফি শপ ও রেস্তোরাঁর জন্য এটি তরুণদের অন্যতম প্রিয় আড্ডাস্থল। কিন্তু এখন এক শান্ত ও অবসাদগ্রস্ত রূপ ধারণ করেছে।

দুপুরে কথা হলে স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘দুদিন আগেও এই সড়কে পা ফেলার জায়গা ছিল না। আজকে পুরো ফাঁকা। তবে ঈদের পরপরই আবার জমে উঠবে। যারা ঢাকায় আছেন তারাই জড়ো হবেন। এখন ঈদের ব্যস্ততার জন্য কেউ আসছেন না।’
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা কাকরাইল ও পল্টন রোডেও মানুষের সমাগম কম দেখা গেছে। এই দুই এলাকার অলিগলিও প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
কথা হলে আশফাক আহমেদ নামে একজন বলেন, ‘এই এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই বেশি। তাই ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই এলাকা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।’
সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি রিকশা-অটোরিকশাও কমে গেছে। ফলে যানজটহীন শহরে গাড়ির গতিও বেড়েছে।
পুরানা পল্টন মোড়ে শাহবাজ নামে এক যাত্রী বলেন, ‘মিরপুর থেকে পল্টন আসতে সময় লেগেছে ৩০-৩৫ মিনিট। তাও এখানে-সেখানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠিয়েছে। তা না হলে ২০-২৫ মিনিটেই চলে আসতো। কারণ পুরো এলাকায় ফাঁকা।’
আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহা। ঈদ উপলক্ষে গতকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। টানা ৭ দিনের এই ছুটি চলবে আগামী রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত।
এএম/এএইচ