জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৬ মে ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপে রেলস্টেশনে তীব্র ভিড় ও ভোগান্তি। যাত্রীচাপ সামাল দিতে রেলওয়ের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকলেও চাহিদার তুলনায় আসন ও বগির সংখ্যা কম থাকায় ট্রেনের ছাদ ও গেটে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রা করছেন অসংখ্য মানুষ। নিরাপত্তা কর্মীরা ছাদের যাত্রীদের বারবার নামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে সরেজমিন ঘুরে এমনই চিত্র দেখা যায়। সকাল থেকেই স্টেশনে শুরু হয় ঈদযাত্রার মূল চাপ। দেশের উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়।
এদিন সকাল ১০টায় সরেজমিনে দেখা যায়, একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি স্টেশনে প্রবেশ করলেই শুরু হয় যাত্রীদের ছুটাছুটি, হুড়োহুড়ি। কেউ কেউ গেটের সঙ্গে ঝুলে, আবার কেউ বগির ফাঁকা জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাড়ির পথে রওনা হন। ট্রেন ছাড়ার সময়ও স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের দৌড়ঝাঁপ ও হুড়োহুড়ি দেখা যায়। সকাল ১০ টা ৫৫ মিনিটে ছাদবোঝাই যাত্রী নিয়েই ছেড়ে যায় একতা এক্সপ্রেস।
একই চিত্র বুড়িমারীগামী ট্রেনসহ অন্যান্য দূরপাল্লার সার্ভিসেও। কমলাপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনগুলোর ছাদ কিছু সময়ের মধ্যেই যাত্রীতে পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে ছাদ বা গেট বেছে নিচ্ছেন। অনেকে জানান, ঈদের আগে টিকিট পাওয়া কঠিন হওয়ায় বাধ্য হয়ে এমন ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, টিকিটের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি থাকায় আগেভাগে ব্যবস্থা না নিতে পারলে আসন পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কেউ কেউ অনলাইনে টিকিট কেটে স্বস্তিতে যাত্রা করলেও বেশিরভাগই ভিড়ের মধ্যেই বাড়ির পথে রওনা হন।
এদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনে র্যাব, পুলিশ, আনসার ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সদস্যরা বারবার যাত্রীদের নানা বিষয়ে সতর্ক করলেও ভিড়ের চাপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে প্রতিটি ট্রেনেই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যাত্রী চাপ তৈরি হয়েছে। সীমিত কোচ ও আসনের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
দিনভর এই ভিড় ও চাপের মধ্যেই কমলাপুর থেকে ছেড়ে যায় একতা এক্সপ্রেসসহ একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন। সেই ট্রেনগুলোর ছাদের ভিড় ঈদযাত্রার চাপের সবচেয়ে দৃশ্যমান চিত্র। আজ বিকেল থেকে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে জানা গেছে।
টিএই/এএইচ