images

জাতীয়

ঘরমুখো মানুষের স্রোত কমলাপুরে, ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ ঈদযাত্রা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৬ মে ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়ছেন মানুষ। লঞ্চ ও বাস টার্মিনালের মতো কমলাপুর রেলস্টেশনেও স্রোত নেমেছে মানুষের। সকাল থেকেই স্টেশনে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। যাত্রীর চাপে বুড়িমারী এক্সপ্রেসে তৈরি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ভেতরে আসন তো দূরের কথা, অনেক বগিতে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। বাধ্য হয়ে বহু যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদ ও গেটে ঝুলে বাড়ির পথে রওনা হতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রেন ছাড়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগেই বুড়িমারী এক্সপ্রেসের ছাদ যাত্রীতে ভরে যায়। কেউ ব্যাগ শক্ত করে ধরে বসে আছেন, কেউ আবার ছাদের কিনারায় পা ঝুলিয়ে অবস্থান করছেন। বিভিন্ন বগির গেটেও অনেক যাত্রীকে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। ট্রেন ছাড়ার শেষ মুহূর্তেও অনেকে দৌড়ে চলন্ত ট্রেনের গেট ধরে ওঠার চেষ্টা করেছেন।

Dhakamail_Eid_train-2যদিও ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিরাপত্তাকর্মীরা বাঁশি বাজিয়ে ও সতর্ক করে যাত্রীদের নামানোর চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

সকাল সাড়ে ৮টায় নির্ধারিত সময়েই বুড়িমারী এক্সপ্রেস কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। ট্রেনের ভেতরে ভিড়ের পাশাপাশি কিছু বগিতে তুলনামূলক ফাঁকাও দেখা গেছে। তারপরও অনেক যাত্রী ছাদে ও গেটে অবস্থান নেন।

Dhakamail_Eid_train-3রংপুরগামী যাত্রী সাইফুল বলেন, ‘ভেতরে প্রচণ্ড ভিড় হবে ভেবেই আগেভাগে ছাদে উঠে গেছি। পরে শুনলাম কয়েকটি বগিতে কিছুটা জায়গা ছিল। কিন্তু তখন আর নামার সুযোগ হয়নি।’

আরেক যাত্রী শওকত বলেন, ‘ঈদের আগে টিকিট পাওয়া খুব কঠিন। এখন কোনোভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই হলো। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু করার কিছু নেই।’

Dhakamail_Eid_train-4তবে সব যাত্রীর অভিজ্ঞতা এক ছিল না। অনলাইনে টিকিট কেটে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন সাজ্জাদ। এসি বগির এই যাত্রী বলেন, আমরা অনলাইনে চেষ্টা করে টিকিট পেয়েছি। যারা একটু দেরিতে অ্যাপে ঢুকেছেন তারা হয়তো পাননি। তবে যারা ছাদে উঠছেন, তাদের অনেকেই হয়তো টিকিটের চেষ্টা করেননি।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় ট্রেন ও বগির সংখ্যা কম হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা যাত্রীদের ছাদ ও গেটে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

টিএই/এমআর