জেলা প্রতিনিধি
২৬ মে ২০২৬, ০৫:৩১ এএম
বকেয়া বেতনসহ সাত দফা দাবিতে হবিগঞ্জের তিনটি চা বাগানে কর্মবিরতি শুরু করেছে চা শ্রমিকরা। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে চুনারুঘাট উপজেলার দেউন্দি, লালচান ও মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে এ কর্মবিরতি পালন শুরু হয়।
দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল বলেন, হবিগঞ্জে দেউন্দি কোম্পানির অধীনে তিনটি বাগান রয়েছে। এসব বাগানে দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা অবহেলিত অবস্থায় রয়েছেন। মালিকপক্ষ ২০২২ সাল থেকে শুধু সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। ৬ মে শ্রীমঙ্গলে সভায় সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত হলেও তারা তা বাস্তবায়ন করেননি। তাই বাধ্য হয়ে শ্রমিকরা সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আমাদের ৭ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
দেউন্দি চা বাগানের মহাব্যবস্থাপক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলন বা দাবি দাওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। শ্রমিকদের তরফ থেকে কোনো আবেদন পেয়েছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা বলতে আইনগত বাধা রয়েছে।
চা শ্রমিকরা জানান, নিয়মিত তলবি (সাপ্তাহিক বেতন) পাচ্ছেন না ৩ বাগানের শ্রমিকরা। ফলে বাগানের প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক চরম সংকটে পড়েছেন। পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে বাগানজুড়ে। ফলে শ্রমিকদের বেতন, পূজার বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
এদিকে ৬ মে বিভাগীয় শ্রম দফতর শ্রীমঙ্গলে মালিক, শ্রমিক ও শ্রম অধিদফতরের ত্রিপাক্ষিক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয় দ্রুত শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করার জন্য।
শ্রমিক নেতা আমোদ মাল জানান, বর্ষা শুরুর আগে জরাজীর্ণ ঘর সংস্কার, শ্রম আইন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, বকেয়া বেতন, রেশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও সাপ্তাহিক তলব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ সিদ্ধান্ত পূরণ না করায় দেঊন্দি কোম্পানির ৩টি বাগানের শ্রমিকরা সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন। সকাল থেকে শ্রমিকরা বাগান ও ফ্যাক্টরিতে না গিয়ে নাট্য মন্দিরে অবস্থান নেন।
এদিকে মৃত্তিঙ্গা চা বাগান (মিরতিংগা চা বাগান) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ১নং রহিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি কমলগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং দেউন্ডি টি কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন। একই দাবিতে মৃত্তিঙ্গা বাগানেরও হাজারো শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করছেন।
প্রতিনিধি/এফএ