images

জাতীয়

জমে উঠেছে গাবতলী হাট, চাহিদা বেশি মাঝারি গরুর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

২৫ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

রাজধানীতে হাট শুরুর ছয় দিনের মাথায় জমে উঠেছে গাবতলী পশুর হাট। হাটে আসা গরু বেপারীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ক্রেতারাও গরু কিনে বাড়ি ফিরতে মরিয়া। ফলে হাটে থাকা ১০টি হাসিল ঘরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় জমেছে। তবে এবার এ হাটে লাখ টাকা ছাড়া কোনো গরু মিলছে না। ক্রেতারা মাঝারি গরুই বেশি খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন বেপারীরা।

সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাটে সরেজমিনে ক্রেতা, বেপারী ও হাসিল সংগ্রহকারীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

পাবনা থেকে ১৮টি গরু নিয়ে এসেছিলেন হাসিনুর রহমান। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক কিন্তু শখের বশে প্রতি বছর গরু লালন পালন করে হাটে বিক্রি করেন। আজ বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয়টি গরু বিক্রি করেছেন তিনি।

হাসিনুর বলেন, আজ বিক্রি জমেছে। আশা করছি আগামীকাল সব গরু বিক্রি করে রাতে বাড়ি যেতে পারব।

দাম কেমন পেলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, খুব বেশি নয়। কোনোটায় লাভ হইছে আবার কোনোটার আসল দাম টিকেছে। তবুও আমি খুশি।

মানিকগঞ্জ থেকে আটটি গরু নিয়ে এসেছেন জয়নাল। তিনি দুটি গরু বিক্রি করেছেন। প্রতি গরু এক লাখ ৩০-৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেও তার নাকি খুব লাভ হয়নি বলছিলেন তিনি। তবে বাকি গরুগুলোতে ভালো দাম পাবেন আশা করছেন এই বেপারী।

ধানমন্ডি এলাকা থেকে গরু কিনতে এসেছেন সিয়াম, নাজমুল ও পাভেল। তারা বলছিলেন, এবার গরুর দাম তাদের কাছে বেশি মনে হয়েছে। যে গরু তারা গত বছর লাখ টাকায় কিনেছেন সেই গরু এবার এক লাখ ২০-৩০ হাজার টাকা করে চাচ্ছেন বেপারীরা। ফলে তারা সন্ধ্যার পর দুই ঘণ্টা হাট ঘুরেও গরু কিনতে পারেননি। 

তবে তারা গরু কিনতে না পারলেও অধিকাংশ ক্রেতা গরু কিনে বাড়ি যাচ্ছেন। তেমনি একজন জহিরুল ইসলাম। তিনি ও তার সঙ্গে আরো ছয়জন গরু কিনতে এসেছিলেন। এক লাখ ৪০ হাজারে গরু কিনে তারা বাসার দিকে যাচ্ছেন। এসময় তার সঙ্গে রাস্তায় কথা হয়। তিনি বলেন, এবার দামটা একটু চড়া। লাখ টাকার ওপরে ছাড়া কোনো গরু নাই। ছোট গরুটাও ৮০ হাজারের নিচে এ হাটে বিক্রি হচ্ছে না।

Haat1

ক্রেতারা বলছেন, তারা বেশি দামে গরু কিনলেও কাঙ্ক্ষিত গরুটিই পাচ্ছেন। ফলে তারা খুশি।

হাট ঘুরে দেখা গেল, হাটের প্রতিটি হাসিল ঘরে উপচে পড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড় জমেছে। হাসিল সংগ্রহকারীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যবারের তুলনায় এবার এ হাটে তেমন ভিড় নেই। সড়কে কিছুটা যানজট থাকলেও রাস্তায় গরু নেই।

ক্রেতারা গরুর হাসিল পরিশোধ করেই পিক-আপে তুলে বাসার দিকে ছুটছেন। তবে এই গরু তুলতে এবং নিয়ে যেতেও অনেকের ঘাম ছুটছে।

Haat

হাটের বিভিন্ন প্রান্তে লাগানো মাইকগুলোতে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছিলো কেউ যাতে হাসিল ছাড়া গরু হাট থেকে বের না করে। ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।

হাটের গরু ভাড়ায় বহনকারী পিকআপ চালকরা বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। হেলাল নামে এক পিকআপ চালক বলেন, তিনি দুপুর থেকে চারটি ট্রিপ মেরেছেন। আবারো ট্রিপের জন্য অপেক্ষা করছেন। তার মতে, আজ গরু বিক্রি বেশ জমে উঠেছে।

এমআইকে/এফএ