images

জাতীয়

গাবতলী হাটে ঢুকছে ‘ভারতীয়’ গরু, দুশ্চিন্তায় খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৫ মে ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

রাজধানীর গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে ভারতীয় সাদা রঙের গরু আসতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশীয় খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ঈদুল আজহা সামনে রেখে মাত্র দুই দিন বাকি থাকতে হাটে এসব গরুর উপস্থিতি বাড়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।

সোমবার (২৫ মে) গাবতলী হাটে সরেজমিনে ঘুরে ব্যবসায়ী ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়।

হাটে আসা ব্যবসায়ী ও খামারিরা জানান, তারা সারা বছর কষ্ট করে দেশীয় গরু লালন-পালন করেন। প্রতিটি গরুর পেছনে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এরপর পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ঈদ মৌসুমেই তারা কিছুটা লাভের আশা করেন। তবে হঠাৎ ভারতীয় গরুর সরবরাহ বাড়লে দেশীয় গরু বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে তারা দাবি করেন।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে ১১টি গরু নিয়ে আসা আবেদ মিয়া জানান, তিনি গত শনিবার গাবতলী হাটে আসেন। তবে এখন পর্যন্ত একটি গরুও বিক্রি হয়নি।

তিনি বলেন, সবাই শুধু দাম জিজ্ঞেস করে, কিন্তু কেনে না। ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এর মধ্যে যদি বাজারে ভারতীয় সাদা রঙের গরু আসে, যেগুলো আকারে বড় এবং তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়, তাহলে আমাদের বড় লোকসান হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব গরু এখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাটে পাওয়া যাচ্ছে বলে শুনছি। এমন চলতে থাকলে আমাদের ঈদের মৌসুমের লাভের আশা শেষ হয়ে যাবে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আবু তালেবও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সারা বছর ধরে গরু লালন-পালন করে ঈদের সময় বিক্রি করে দেনা শোধ করি। কিন্তু এখন বাজারে ভারতীয় সাদা রঙের বলদ গরু আসছে, যা আগে ছিল না। যদি এভাবে সরবরাহ বাড়তে থাকে, তাহলে আমরা বড় ধরনের লোকসানে পড়ব।

তবে ভারতীয় গরু আসার অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন হাট সংশ্লিষ্টরা।

গাবতলী হাটের প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদ বলেন, হাটে ভারতীয় গরু আসার অভিযোগ সঠিক নয়। যেসব সাদা রঙের গরু দেখা যাচ্ছে, সেগুলো দেশীয় খামারিরা দীর্ঘদিন লালন-পালন করেছেন। এক বছর আগে কিছু গরু বাইরে থেকে আনা হলেও এখন হাটে যেসব গরু আসছে, সেগুলো সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে পালন করা।

‎একেএস/এআর