জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ মে ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে যখন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়ছে বিক্রেতা ও খামারিদের। কোরবানির হাটে ভালো দাম পাওয়ার আশায় পশুর পরিচর্যা, খাওয়ানো ও দেখভালেই এখন তাদের প্রধান মনোযোগ। অনেকেই গরু চকচকে দেখতে মাখাচ্ছেন সরিষার তেল। বাজারের ভিড়ের মধ্যেই বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া গরুর যত্নে কমতি নেই তাদের।
সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর কমলাপুর হাটে দেখা যায়, বিক্রেতারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরুর খাবার দেওয়া, গোসল করানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেকেই নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় মেনে গরুকে খড়, দানাদার খাবার ও পানি দিচ্ছেন যাতে পশুগুলো সুস্থ ও আকর্ষণীয় দেখায়।
বিক্রেতারা বলছেন, হাটে পশুর স্বাস্থ্য ও চেহারাই মূলত দাম নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাই শেষ মুহূর্তে কোনো ধরনের অসুস্থতা বা অবহেলা হলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা থাকে।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ এলাকাজুড়ে কমলাপুর হাট, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ভিড়
ভিড়ের মধ্যেই গরুর গায়ে তেল মাখাচ্ছিলেন জামালপুর থেকে গরু নিয়ে আসা হারুন। তিনি ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান, নিজের যত্ন পরে, আগে গরুর যত্ন। বৃষ্টিতে গরু ভিজে গেছে এজন্য তেল মাখাচ্ছি, যাতে ভালো দেখায়।

গাইবান্ধা থেকে আসা বিক্রেতা হাফিজ বলেন, হাটে এখন ক্রেতা আসছে, দেখছে, দরদাম করছে। বিকাল থেকে ক্রেতা বাড়ছে। তবে বেশিরভাগই এখনো কিনছে না। তাই গরুর যত্নে কোনো কমতি রাখা যাচ্ছে না।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগের দুই দিনে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। তাই এই সময়টায় বিক্রেতাদের চাপ ও ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। গরুর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা।
হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, পশুর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও জোরদার করা হয়েছে।
টিএই/এআর