জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৫ মে ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট—কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাট। মুগদা বিশ্বরোড, মানিকনগর টিটিপাড়া স্টেডিয়াম, আন্ডারপাস হয়ে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন পর্যন্ত বিস্তৃত এ হাটে এখন জমে উঠছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু নিয়ে এসেছেন এখানে। এখনো ট্রাকে করে নতুন নতুন পশু আসছে।
সড়কপথের পাশাপাশি এবার রেলপথেও বিপুল পরিমাণ পশু কমলাপুরে এসেছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাকযোগে গরু নিয়ে আসছেন ব্যাপারীরা।
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র তিন দিন বাকি। গত দুই দিন ক্রেতার সমাগম কম দেখা গেলেও সময় যত ঘনিয়ে আসছে, পশুর হাটে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সোমবার সকাল থেকে ক্রেতা কম থাকলেও সময় যত গড়াচ্ছে ততই ক্রেতা বাড়ছে। হাটসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের শুরুর দিকে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও গত দুই দিন ধরে বেচাকেনা জমে উঠেছে। অনেকেই শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা না করে এখনই পছন্দের পশু কিনতে হাটে আসছেন।

সোমবার কমলাপুর পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকলেও বড় গরুও কিনছেন অনেকে। আবার অনেকে খুঁজছেন ছোট গরু। গরু কিনতে আসা ক্রেতা হাফিজুল বলেন, এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। এখনো কিনতে পারিনি। এই হাটে কিনতে না পারলে কাল আরেক হাটে দেখতে হবে। কালকের মধ্যেই কিনে ফেলব।
গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রেতা ও খামারিদের মধ্যে ভালো দাম পাওয়ার আশা দেখা যাচ্ছে। এর পেছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে। দেশের সীমান্তঘেঁষা হাটগুলো বন্ধ থাকা এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে পশুর প্রবেশ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় বাজার এখন পুরোপুরি দেশীয় পশুর ওপর নির্ভরশীল। গত বছরের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে দেশের কিছু বড় খামার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এবার বাজারে পশুর অতিরিক্ত কৃত্রিম চাপ নেই।

ময়মনসিংহ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন হোসেন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত একটি গরু বিক্রি করেছি। এখন মানুষ আসছে আর দেখে যাচ্ছে। বেশির ভাগ মানুষ গরু কিনবে কাল ও আগের দিন। গতবার ১৬টি গরু এনেছিলাম। সব বিক্রি হয়েছিল। এবারও হবে আশা করছি।
হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। ঈদের আগের দুই দিনে হাটে সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
হাসিলঘরের দায়িত্বে থাকা ইসমাইল বলেন, এবার গরুপ্রতি শতকরা ৫ টাকা হারে নেওয়া হচ্ছে। সকাল থেকে খুব বেশি ক্রেতা ছিল না। বৃষ্টির কারণে অনেক ক্রেতাই আসতে পারেননি। এখন বিকেল যত গড়াচ্ছে, আমাদের চাপ ততই বাড়ছে। কাল সবচেয়ে বেশি গরু বিক্রি হবে বলে আমরা আশা করছি।
টিএই/এআর