নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ মে ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম
বাবার দেওয়া সম্পত্তি প্রথম পক্ষের সন্তানদের লিখে না দেওয়ায় সৎ মা ও ভাইকে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যার ঘটনা আড়াল করতে থানায় গিয়ে করা হয় নিখোঁজ জিডি। এমন ঘটনার দুই বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন করে দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।
সোমবার (২৫ মে) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
সিআইডি জানায়, ২০২৪ সালের ১০ মার্চ ভুক্তভোগীর সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ৯ মার্চ থেকে তাদের সৎ মা কমলা খাতুন নিখোঁজ রয়েছেন এবং মোবাইল ফোনেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এমন খবর পেয়ে ছুটে আসেন কমলা খাতুনের ছোট বোন রহিমা বেগম। তিনি এসে সৎ ছেলে জিয়াউর রহমান সাগর ও সাইফুল ইসলাম রাজন রাজুকে তার বোন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারাও কমলা খাতুনকে খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান। তারা রহিমা বেগমকে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এ বিষয়ে থানায় জিডিও করা হয়েছে বলে তথ্য দেন।
কিন্তু রহিমা বেগম তাদের কথায় পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে না পেরে বোনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নিজেই বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। সেখানে কমলা খাতুন এর সৎ ছেলে সাগর, রাজু, শ্যামলী ও কাজলকে সন্দেহভাজন হিসেবে আসামি করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত প্রথমে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নোয়াখালীকে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। পরে আরও গভীর অনুসন্ধানের জন্য মামলাটি সিআইডি নোয়াখালীকে হস্তান্তর করা হয়।
সিআইডি জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে নানা অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পর অবশেষে ২০২৪ সালের ৪ জুন সিআইডির অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সোনাইমুড়ি থানায় একটি মামলা রুজুর নির্দেশ দেন।
মামলায় পর সিআইডি তদন্তে নেমে জানতে পারে, মৃত্যুর আগে আবুল কালাম আজাদ তার দ্বিতীয় স্ত্রী কমলা খাতুন এবং তাদের একমাত্র শিশু সন্তান নোমানের নামে বসতবাড়িসহ সংলগ্ন প্রায় ৩০ শতাংশ জমি লিখে দিয়েছিলেন। বর্তমানে যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রথম সংসারের সন্তানদের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরোধ চলে আসছিল।
মূলত ভুক্তভোগী কমলা খাতুনের ব্যবহৃত একটি মোবাইল এক ব্যবহারকারীর কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোবাইল ফোনটি ঢাকার সবুজবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে ভাঙারি মালামালের সঙ্গে বিক্রি করা হয়েছিল। যে বাসায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রাজন রাজু একসময় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
সিআইডি আরও জানায়, এ ঘটনার পর গত ২১ মে রাতে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার ভাটিকাশর এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে রাজন ওরফে রাজুকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন ২২ মে সোনাইমুড়ী জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকে আরেক এজাহারভুক্ত আসামি জিয়াউর রহমান ওরফে সাগর এবং আশিকুর রহমান টিপুকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর পর তিন দিনের রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যার পর লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেন।
একেএস/এএইচ