নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ-হত্যায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান। তারা বলেছেন, এই বিচার এমন দৃষ্টান্তমূলক করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার দুঃসাহস না দেখায়।
আজ শনিবার (২৩ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা এসব বলেন।
হেফাজত নেতারা বলেন, এমন পাশবিক, নৃশংস ও মানবতাবিরোধী ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। আমরা নিহত শিশু রামিসার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাচ্ছি।
নেতারা বলেন, একটি সভ্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ধারাবাহিক ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। রামিসা হত্যাকাণ্ড সেই ভয়াবহ বাস্তবতারই নির্মম প্রতিচ্ছবি। যদি অপরাধীরা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আসে, তবে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
হেফাজত নেতারা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি দাবি জানিয়ে বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা দীর্ঘসূত্রতা জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে ক্ষুণ্ন করবে। এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করার দুঃসাহস না দেখায়।
নেতারা বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগে নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাধ্যমেই নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ক.ম/