জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব।
শনিবার (২৩মে) বিকেলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৬ সালের পর থেকে ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উদযাপন হয়নি। প্রায় দুই দশক পর পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে এই আয়োজন করতে পেরে সরকার গৌরববোধ করছে। আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যদি আমরা গভীর শ্রদ্ধায় বরণ করতে না পারি, তবে সেটি জাতি হিসেবে আমাদেরই দৈন্যতা।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কবির দুর্দিনের সুহৃদদের স্মরণ করে বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছি মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহকে, যিনি ১৯১৪ সালে নজরুলকে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন।’
ইতিহাসের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির মরদেহ বহনকারীদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালের ২৫ মে কবির জন্মজয়ন্তীর র্যালিতেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ত্রিশালে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করে কবির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন।
বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের বিচার বিভাগসহ সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর চেয়েও বড় ক্ষতি হয়েছে আমাদের মানবিক ও সামাজিক মূল্যবোধের। মিরপুরে একটি নিষ্পাপ মেয়ের নির্মম মৃত্যু প্রমাণ করে আমাদের মানবিক অবক্ষয় কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে। এইসব কালজয়ী আদর্শ থেকে দূরে চলে যাওয়ার কারণেই আজ সমাজে এই পতন।
তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে।
কবির জীবনদর্শন বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। তিনি নারী অধিকার, মেহনতি মানুষের কল্যাণ আর অসাম্প্রদায়িক বিশ্বমানবতার ফেরিওয়ালা। তাঁর স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ত্রিশালকে 'নজরুল সিটি' হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, এ ব্যাপারে আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং পর্যটন বিভাগের প্রতি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নজরুল এক অবিভাজ্য সত্তা। তিনি আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ। আসুন, জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা অন্যায়, অবিচার ও দারিদ্র্যের গ্লানি মুছে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য নিজেদের নিবেদিত করি।।
পরে তিনি জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বিইউ/ক.ম