নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতাসক্ষম করতে হলে শিল্পখাতকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। শিল্পখাত সংকটে থাকলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কর্মসংস্থানে টেকসই উত্তরণ: টেক্সটাইল শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পথচলা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নতুন করে সরকারি মালিকানায় কোনো মিল স্থাপন বা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে না।
ব্যবসা পরিচালনায় ব্যক্তিখাতই মূল ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
তিনি বিদ্যমান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর কারিকুলাম সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম নিয়মিত হালনাগাদ করারও আহ্বান জানান তিনি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়নে বিটিএমএ এবং সক্ষম বেসরকারি মিলগুলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকের ঘাটতি কমবে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব শিল্প অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কস্ট অব ফান্ড এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বর্তমানে টেক্সটাইল খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে।
একই সঙ্গে ম্যানমেইড ফাইবার, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং ভ্যালু চেইনে আপগ্রেডেশনের মাধ্যমে খাতটিকে আরও প্রতিযোগিতা সক্ষম করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্বাসউদ্দীন শায়ক।
প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন ব্লু প্লানেটের নির্বাহী পরিচালক কাজী মাসুম রাশেদ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজীজ রাসেল।
এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ডুয়েটের অধ্যাপক ড. আব্দুস শহীদ, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী রনি গাজী এবং সিরাজগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. কবির।
সেমিনারে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং টেক্সটাইল খাতের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
এমআর/এএস