নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মে ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের কুলখানি ও মিলাদ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা ছেড়েছেন তার বাবা-মা। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে রওনা দেন তারা। সন্তান হারানোর শোকে ভেঙে পড়া পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এসময় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হন স্থানীয়রা।
এদিন সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়ো হতে থাকেন। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অনেকের হাতে ছিল রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি ও শিশু ধর্ষণ-হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা প্ল্যাকার্ড।
এসময় এলাকাজুড়ে ছিল শোকাবহ ও থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়রা বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানের পারিবারিক কবরস্থানে রামিসাকে দাফন করা হয়। এসময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। একই ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এএইচ/এএস