নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মে ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকান ও অনুমোদনহীন মাছ বাজারের কারণে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নগরবাসীর জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে কঠোর অবস্থানে থাকবে সিটি করপোরেশন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড সংলগ্ন মসজিদুল আকবার ঈদগাহ মাঠের সংস্কার কাজ শেষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক এসব বলেন।
ঈদগাহ মাঠের স্মৃতিচারণ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমার শৈশবের অনেক স্মৃতি এই মাঠকে ঘিরে। রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিও এই মাঠের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাই মাঠটিকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, মাঠের চারপাশে অনুমোদনহীনভাবে মাছের বাজার বসানো হয়, যা পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। এখন থেকে এখানে কোনো অবৈধ কাঁচাবাজার, মাছের বাজার কিংবা ফুটপাত দখল করে খাবার দোকান বসতে দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাঠটি সারাদিন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এলাকার ছেলে-মেয়েরা এখানে খেলাধুলা করতে পারবে। খেলাধুলার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দরকার হলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও শরীরচর্চার বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জায়গার সংকট রয়েছে। অনেক মাঠ দখল হয়ে গেছে বা অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই মাঠ সংস্কারের মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা রক্ষায় স্থানীয়দেরও এগিয়ে আসতে হবে।
সংসদ সদস্য বলেন, ফুটপাত দখল, অবৈধ ফুড কোর্ট ও মাছ বাজারের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এসব প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে মাঠটির সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সংস্কার কাজের আওতায় মাঠে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ২৬০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ নির্মাণ, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, একাধিক প্রবেশ গেট নির্মাণ এবং ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
মাঠটিতে একসঙ্গে প্রায় সাত হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। পাশাপাশি জানাজার নামাজের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/ক.ম