images

জাতীয়

হাওর, উপকূল ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৮ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

দেশের দুর্যোগপ্রবণ উপকূল, হাওরাঞ্চল এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবিক সহায়তা সংস্থার অর্থায়নে সরকার-নেতৃত্বাধীন আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করতে ‘প্রতিষ্ঠা’ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে। 

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম সফিকুল হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। 

1

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত ও অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগ। এ ধরনের প্রকল্প ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যেকোনো দুর্যোগের আগাম সতর্কতা ও সেটি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি নাটকীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে পারে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘আমরা পাঁচ দিন পর্যন্ত যে পূর্বাভাস দিয়ে থাকি, তা প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তবে সময় যত বাড়ে, পূর্বাভাসে ত্রুটির সম্ভাবনাও বাড়ে। আমরা সতর্কবার্তাও দিই, কিন্তু সেই বার্তা প্রয়োজনীয় পর্যায়ে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারি না। ফলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাঙ্খিতভাবে কমিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়ে ‘

‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ -এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফুয়াদ উর রব্বি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, পূর্বাভাস থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্যকে সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

2

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি মূলত নদীবিধৌত বন্যাপ্রবণ এলাকা, হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হবে। মৌসুমি বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৃষ্ট বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণই হবে এর প্রধান লক্ষ্য। এর আওতায় ৮৭ হাজারের বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে সঙ্গে লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস) এমেবেট মেনা বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে কেয়ার।

আয়োজনে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন, এসিএফের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর তপন কুমার চক্রবর্তী, ইসিএইচও’র প্রোগ্রাম অফিসার মোকিত বিল্লাহ ছাড়াও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংস্থা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন।

এমআইকে/এএইচ