জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
১৭ মে ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
বাংলাদেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত জুয়ার ১১৬টি সাইট শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। সেগুলো বন্ধে ইতোমধ্যে বিটিআরসিতে সাইটগুলোর লিংক পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইটগুলো বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ৮৭৯টি হিসাবের বিবরণী বাংলাদেশের ব্যাংকের পাচার রোধে গঠিত কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ-তে (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিবরণী বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের ঘটনায় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করেছে চক্রটির আট সদস্য।
তারা হলেন- আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ও আব্দুর রহমান (৪৭)।
সিআইডি প্রধান জানান, চক্রটি কয়েকটি লেয়ারে জুয়ার কার্যক্রম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও অর্থপাচারের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে শুধু একটি চক্রেই গত ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো। গড়ে দেড় কোটি করে লেনদেন হলে ৫ মাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা করেছে।
সিআইডি প্রধান বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব সাইটে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা- বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টো ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করতো। পরবর্তীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলোভিত করে তারা গত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করতো এবং এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করে আসছিল।
পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ সম্পর্কে সিআইডি প্রধান বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এমআইকে/এএইচ