একে সালমান
১৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
রাজধানীতে এক নারীর ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে তাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন মিরপুরের রূপনগর এলাকার ঝুট ব্যবসায়ী বিথী বেগম। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের দারস্থ হলে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। রূপনগর থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী নারীর।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের সঙ্গে ভুক্তভোগীকে নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী নারী বলছেন, সমাধান নয়, উল্টো চাপ সৃষ্টি করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনও আমার কাছে আসেনি। তারপরও খোঁজ খবর নিচ্ছি। যদি এ ঘটনায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে অবশ্যই পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে। এক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। আমরা অন্যায়কে কোনোভাবে প্রশ্রয় দেবো না। আমি নিজে ওই নারীকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। তিনি তার মতো নির্বিঘ্নে ব্যবসা করবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।
দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ভুক্তভোগী:
ভুক্তভোগী বিথী বেগম ঢাকা মেইলকে বলেন, রূপনগর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট বিক্রির জন্য সাব কন্ট্রাক্টে ব্যবসা আছে। আমরা পরিবারিকভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ এ ব্যবসা করে আসছি। নির্বাচনের পর হঠাৎ রূপনগর থানার স্বেচ্ছাসেবকদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আমার কাছে নানাভাবে চাঁদা চাইতে থাকে। আমি কোনো চাঁদা না দেওয়ায় তারা সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাকে আটক করে আমার ব্যবসা দখল করে নিয়েছে।
বিথী বেগম বলেন, এ ঘটনায় আমি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের কাছে গেলে তিনি আমাকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী অভিযোগ দিয়েছি।
রূপনগর থানা ও মিরপুর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) বরাবর আইনি সহায়তা চেয়ে অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে বিথী বলেন, গত ২৫ এপ্রিল কিছু নেতাকর্মী এসে আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘পোস্টার কেটেক্স এন্টারপ্রাইজ’ এর ঝুট ব্যবসা দখলের হুমকি দেয়। তারা হলেন- রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক টুটুল, পল্লবী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাবু, রূপনগর থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব, রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আমির হোসেন ও রওশন। পরে বিষয়টি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজকেও জানিয়েছি।
বিথী বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর গত ৪ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারা গার্মেন্টসের সামনে এসে আমার কাজের লোকদের মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমাকে ফোন দিলে আমি ঘটনাস্থলে ছুটে আসি। এরপর তাদের অনেক অনুরোধ করে গার্মেন্টসের ঝুট বিক্রি করি। পরে তারা বিক্রির ৫২ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, বিথী বেগমের পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তার ছোট ভাই জিয়া রূপনগর থানা মটরশ্রমিক লীগের নেতা ছিলেন। ছাত্র হত্যা মামলায় কারাগারেও ছিলেন। বিথী বেগমের ছেলে আইয়ুব মাতবর নীরব রূপনগর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ আমলে একচেটিয়া এখানকার ঝুট ব্যবসা করে আসছেন।
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা যা বলছেন:
ঝুট ব্যবসা দখল করে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রূপনগর থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাজেদুল আলম টুটুল ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা কারও ব্যবসা দখল করিনি। কিছুদিন আগে রূপনগরে একটা আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। সেজন্য রাস্তায় যেন কেউ গার্মেন্টসের ঝুট না রাখে সে বিষয়ে গার্মেন্টস মালিক ও ঝুট ব্যবসায়ীদের সতর্ক করছিলাম। এখানে কোনো ঝুট ব্যবসা দখলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে জানতে চাইলে টুটুল বলেন, টাকা নেওয়ার ফুটেজ আছে- এটা আমি আপনার থেকে প্রথম শুনলাম। যদি এমন হয়ে থাকে এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ যা বলছে:
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিথী বেগমের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করেছেন রূপনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিঠু মিয়া। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘এ ঘটনায় বিথী বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর আমি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করি। ঘটনাস্থলে গিয়ে গার্মেন্টসের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি ওসি স্যারকে জানানোর পর তিনি চার-পাঁচ দিন আগে আমাকে ফোন দিয়ে দুই পক্ষকে থানায় ডাকতে বলেন। এরপর থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি।
একেএস/ক.ম