নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
অবৈধ দখল ও বর্জ্য ফেলার কারণে রাজধানীর খালগুলো বারবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসী কষ্ট করবে, এটা হতে পারে না। জনগণের টাকা খরচ করে প্রতিদিন খাল পরিষ্কার করা হবে আর পরের দিন আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে, সেটাও মেনে নেওয়া হবে না।
বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর কালসিতে সাংবাদিক কলোনী খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, যারা অবৈধভাবে খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। আপাতত এক সপ্তাহব্যাপী খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে এলাকাবাসী সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা থেকে কিছুটা স্বস্তি পায়। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিক সমিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত দখলের কারণে খালটির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। খালটি একাধিকবার পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে হলে খাল উদ্ধার এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখার কোনো বিকল্প নেই। অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসনের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি বা সংস্থার জমি দখল করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় কেউ সময় চাইলে আলোচনা সাপেক্ষে বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক।
খাল ও ড্রেনে ময়লা ফেলা বন্ধে নগরবাসীর সচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রশাসক বলেন, ড্রেন বা খাল কোনোভাবেই ময়লা ফেলার স্থান নয়। শুধু পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এএইচ/এআর