images

জাতীয়

কোরবানির বর্জ্য অপসারণে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে ডিএনসিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ মে ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

রাজধানীতে কোরবানির সময় সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। 

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর গুলশান, বারিধারা ও মিরপুর এলাকায় বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন ও পলিব্যাগ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণের বিকল্প নেই।’

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করেছে ডিএনসিসি। বর্জ্য পৃথকীকরণ, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা এবং নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কোরবানির সময় নগরজুড়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। সেগুলো দ্রুত অপসারণ এবং পরিবেশ দূষণ রোধে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। নগরবাসী সহযোগিতা করলে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমরা চাই বর্জ্য থাকবে ডাস্টবিনে, আর সেখান থেকে সিটি করপোরেশন তা সংগ্রহ করবে। এ লক্ষ্যে মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেটসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে পর্যায়ক্রমে ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘শুধু মসজিদ নয়, পর্যায়ক্রমে মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন মার্কেটেও বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন আবাসিক সোসাইটিকেও এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। বর্জ্য উৎপাদনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। উৎসে বর্জ্য পৃথকীকরণ বা ‘সোর্স সেগ্রিগেশন’ কার্যক্রম সফল হলে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও অপসারণ আরও সহজ হবে।’

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও গির্জায় হলুদ ও সবুজ রঙের বর্জ্য বিন বিতরণ করা হয়। প্রশাসক স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঠিক বিন ব্যবহার এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত ঝুড়িতে ফেলার আহ্বান জানান।

আলোচনা শেষে গুলশান সোসাইটি জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্জ্য পৃথকীকরণ বিন ও পলিব্যাগ হস্তান্তর করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। অনুষ্ঠানে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ওমর সাদাতসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ডিএনসিসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ/এমআই