নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ মে ২০২৬, ১০:৫১ এএম
বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনে যুক্ত হওয়া ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ ও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’সহ কয়েকটি পরিভাষা বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তাদের মতে, এসব শব্দের সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকায় ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
মঙ্গলবার (১২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এ দাবি জানান। মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাতের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম আইন হওয়া উচিত শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতের বাস্তবভিত্তিক আইন। সেখানে অস্পষ্ট ও বিতর্কিত মতাদর্শিক পরিভাষা সংযোজন সমাজে বিভাজন ও মূল্যবোধগত সংঘাত তৈরি করতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর মাধ্যমে শ্রম আইন ২০০৬–এ ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’, ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’ ও ‘জেন্ডারভিত্তিক অন্যান্য আচরণ’ শব্দগুলো যুক্ত করা হলেও এসবের কোনো স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। ফলে ভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্বাক্ষরকারীরা দাবি করেন, এ ধরনের অস্পষ্টতা নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে দেশের ধর্মীয় অনুভূতি, সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিবৃতিতে শ্রম আইনে ব্যবহৃত ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ শব্দের সুস্পষ্ট আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং বিতর্কিত ও অসংজ্ঞায়িত পরিভাষা সংশোধন বা অপসারণের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ, মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আলী হাসান তৈয়বসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।
এমআর/এআরএম