images

জাতীয়

এই দিনটার জন্য কখনোই অপেক্ষায় ছিলাম না: বৃষ্টির বাবা

ঢাকা মেইল ডেস্ক

০৯ মে ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

‘এই দিনটার জন্য আমরা কখনোই অপেক্ষায় ছিলাম না। আগামী জুলাইয়ের ১৭ তারিখে ও ল্যান্ড করবে, এভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। রাত আড়াইটার সময় এখানে ল্যান্ড করবে, আমরা ওইভাবে ওকে নিতে আসব। কিন্তু তার আগেই ওকে নিতে আসলাম। তবে জীবিত না, মৃত এই আরকি।’  

বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে অশ্রুসিক্ত চোখে এই কথাগুলো বলছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন।

যুক্তরাষ্ট্রে মর্মান্তিকভাবে নিহত বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ শনিবার (৯ মে) সকালে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন বৃষ্টির বাবা, মা ও ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা তার মরদেহ গ্রহণ করেন। সেখানে তার সাবেক সহপাঠীরাও উপস্থিত ছিলেন।

বৃষ্টির সঙ্গে একই সময় হত্যার শিকার বাংলাদেশি আরেকজন পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে ঢাকায় এসে পৌঁছায়। তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পিএইচডি করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল তারা নিখোঁজ হন। 

brishty
 নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ও জামিল আহমেদ লিমন নিখোঁজের পোস্ট করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পরে লিমনের রুমমেট মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের পর হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, গত ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় আবর্জনা ফেলার কালো রঙের কয়েকটি ব্যাগের মধ্যে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। ২৬ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে পাওয়া আরেকটি মরদেহের অংশবিশেষ পরীক্ষা করে তা বৃষ্টির বলে শনাক্ত করা হয়। 

প্রায় ২৭ বছরের জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। তার সমবয়সী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ওই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পিইচডি করছিলেন।

বৃষ্টির নকশা করা একটি বাড়ি ছিল
বৃষ্টির বাবা জহির উদ্দিন আকন সাংবাদিকদের জানান, মাদারীপুরে বৃষ্টির নিজস্ব নকশা করা একটি বাড়ি ছিল। বৃষ্টির খুব শখ ছিল তিনি পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরে এই বাড়িটির উদ্বোধন করবেন। এছাড়াও বৃষ্টি সবসময় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইতেন বলেও জানান তার বাবা।

‘ওর ডিজাইন করা একটি বাড়ি আমি গ্রামের বাড়িতে করেছিলাম। ও এসে বাড়িটা উদ্বোধন করবে এই প্রত্যাশা ছিল আরকি। এবং গ্রামে যত দুঃখী মানুষ আছে তাদের পাশে থাকবে- এই ছিল তার একটা প্রবল ইচ্ছা। আর বাড়ির সামনে একটা নেমপ্লেট থাকবে যেখানে লেখা থাকবে – ড. নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি।  সার্টিফিকেট যদিও পাইছে, কিন্তু সেটা ছিল মরোণত্তর। জীবিত আর নাই,’ বলেন বৃষ্টির বাবা।

গত সপ্তাহে ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডা এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিহত নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং জামিল হাসান লিমনকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। বৃষ্টির হয়ে এই ডিগ্রি গ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল।

বৃষ্টির অধ্যাপক ড. বিনয় গুপ্ত সিবিএস নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বৃষ্টির লক্ষ্য ছিল উচ্চশিক্ষা শেষে অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা। এই সমস্যাগুলো তার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ 

বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃষ্টির মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে ৪ মে লিমনের মরদেহে বাংলাদেশে পৌঁছালে তাকে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

বাংলাদেশি এই দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার দায়ে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারিবের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। হিলসবোরো স্টেট অ্যাটর্নি অফিসের অভিযোগ অনুযায়ী, অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামির মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। -বিবিসি 

ক.ম/