নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
দেশের ১৮ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের চাহিদা পূরণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে গবেষণাকে আরো জোরদার করতে হবে এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে।
শনিবার (৯ মে) রাজধানী ঢাকায় ‘টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড (বিএসএসএফ) আয়োজিত ৮ম জাতীয় বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ সরোয়ার জাহানের সঞ্চালনায় আয়োজিত সম্মেলনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, গবেষক, কৃষিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গবেষণা ও জনসচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমান।
উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য পরিচালক (মৎস্য) ড. মো. মনিরুল ইসলাম। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম।
এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ফিশ, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, সিএবি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সম্মেলনে ‘সেফ ফুড অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ প্রদান করা হয় নওগাঁর সাপাহার উপজেলার উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানাকে। এবারের সম্মেলনে তিনটি বৈজ্ঞানিক সেশনে মোট ১৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। সেশনগুলোতে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পাশাপাশি বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেশনে আরো চারটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় এবং প্রায় ৭০টি গবেষণা পোস্টার প্রদর্শিত হয়।
সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল ওয়ার্ল্ড ফিশ, হেইফার ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ, সিএবি ইন্টারন্যাশনাল এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (জিএআইএন)। প্লাটিনাম স্পনসর হিসেবে ছিল ইন্টার এগ্রো বাংলাদেশ, গোল্ড স্পনসর নারিশ গ্রুপ এবং সিলভার স্পনসর হিসেবে পৃষ্ঠপোষকতা করে প্যারাগন ডেইরি।
এএইচ/এফএ