নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ মে ২০২৬, ০৭:৩১ এএম
চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলাউদ্দিন মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ঘটনায় যাত্রাবাড়ি থানায় একাধিক জিডি ও মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেল চারটায় সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তার বাসা ঘেরাও করে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আলাউদ্দিন মানিকের সঙ্গে তার আপন ভাই বিল্লাল ওরফে হাইড্রোলিক বিল্লাল, সুমন ও রোমান মিলে সায়েদাবাদ এলাকায় একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়ভাবে গাড়ির যন্ত্রাংশ ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সায়েদাবাদে তাদের শফি মটরস নামের একটি গাড়ির যন্ত্রপাতি বিক্রির দোকান রয়েছে। যেখানে তারা যন্ত্রপাতির দাম বেশি রাখেন এবং নিম্নমানের মালামাল বিক্রি করেন। তাদের দোকান থেকে গাড়ির কর্মচারীরা মালামাল না কিনলে তারা সংশ্লিষ্টদের বাস কাউন্টারে হামলা ও স্টাফদের মারধর করেন। ভুক্তভোগীদের করা জিডিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, একই ধরনের অভিযোগ বারবার উঠে এসেছে।
স্বেচ্ছাসেবকদল নেতার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ
গত ১ এপ্রিল দায়ের করা একটি জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সায়েদাবাদ এলাকায় মালামাল ক্রয়ের সময় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এক ভুক্তভোগীর ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। সেখানে আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রলিক বিল্লাল, রোমান ও সুমন সরাসরি হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়াও, গত ৩১ মার্চ দায়ের করা আরেকটি জিডিতে বলা হয়, এক ভুক্তভোগীকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আলাউদ্দিন মানিক, হাইড্রলিক বিল্লাল ও সুমনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা এবং পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মীদের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়।
এছাড়াও, যাত্রাবাড়ী থানায় তাদের বিরুদ্ধে হওয়া একটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মানিকের ছোট ভাই সুমন নুর আলম আজাদ নামের এক ব্যবসায়ীকে প্রথমে মারধর করে। পরে তার গায়ে গরম চা নিক্ষেপ করে দগ্ধ করে। ভুক্তভোগীর দাবি, এই হামলার পেছনে আলাউদ্দিন মানিকের নির্দেশনা ছিল। দগ্ধ হয়ে তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, বাসা থেকে গ্রেফতারের পর আলাউদ্দিন মানিককে যাত্রাবাড়ী থানায় নেওয়া হয়েছে। থানাটির একটি চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
একেএস/এএস