নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ মে ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে অকৃষিবিদকে মহাপরিচালক নিয়োগ এবং এ নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কৃষিবিদদের পেশাজীবী সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংগঠনটির মহাসচিব কৃষিবিদ ডা. মো. শহীদুল্লাহ শরীফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে চলমান অস্থিরতা নিয়ে এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (এএফবি) সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুব ই ইলাহী তৌহিদ ও মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট বর্তমানে নেতৃত্ব সংকটে, প্রশাসনিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সিদ্ধান্তহীনতায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিশেষ ভুমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করে প্রতিষ্ঠানটিতে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে ধান গবেষণাকে দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’
‘কিন্তু গত ২ এপ্রিল থেকে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের পদ মাসাধিক কাল যাবৎ শুন্য থাকার পরেও কৃষি মন্ত্রণালয় ওই পদে কাউকে দায়িত্ব দেয়নি। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদোন্নতি প্রাপ্ত সিএসও ড. মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে গত ৩ মে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।’
‘এর ফলে আমিনুল ও পরিচালক রফিকুল ইসলাম গ্রুপের বিজ্ঞানী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, অবস্থান, ধাক্কাধাক্কি- এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গবেষণা বিভাগ, ল্যাব, দফতর ও বিজ্ঞানীদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্বাভাবিক গবেষণা কার্যক্রম, ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ফাইল নিষ্পত্তি এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।’
ফলে নজিরবিহীনভাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, যিনি একজন অকৃষিবিদ এবং কৃষি গবেষণার সঙ্গে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না- তাকে মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্রি প্রতিষ্ঠার ৫৫ বছরের ইতিহাস ভেঙে বিজ্ঞানীদের বাইরে কাউকে এমন দায়িত্ব দেওয়া হলো। এর ফলে বিজ্ঞানী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।’
এমতাবস্থায় এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুব ই ইলাহী তৌহিদ ও মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তারা বলেন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত মূল পরিচয়। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে জ্যেষ্ঠতা, যোগ্যতা, অতীতের ভূমিকা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ বিবেচনায় যোগ্য বিজ্ঞানীকে দ্রুত মহাপরিচালকের দায়িত্ব দিয়ে গবেষণার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরেয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
এছাড়া মহাপরিচালকের পদ ঘিরে চলমান টানাপোড়েন, হামলা-হুমকির অভিযোগ, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এএইচ