নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬ মে ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম
দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, যিনি শিশুবক্তা নামে পরিচিত। গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতেই দ্বিতীয় বিয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানিয়েছেন আলোচিত এই ইসলামি বক্তা।
বুধবার (৬ মে) সকালে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে রফিকুল ইসলাম মাদানী উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর ভয় এবং গোনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখতেই তিনি জীবনের এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি লেখেন, ‘আমি আমার আল্লাহকে ভয় করি… গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে চাই। এই চাওয়াটাই আমাকে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে-দ্বিতীয় বিয়ে।’ এই সমাজে কত মানুষ আছে, যারা বিবাহিত হয়েও হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, গোপনে গোনাহ করে। আমি সেই পথের একজন হতে চাইনি। আমি চাইনি নিজেকে কোনো হোটেল, পার্ক কিংবা অন্ধকার কোনো পথে খুঁজে পাই। আমি চেয়েছি হালালের মধ্যে থাকতে, আল্লাহর বিধানের মধ্যে থাকতে।
দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্তে প্রথম স্ত্রীর মানসিক কষ্টের কথা জানিয়ে মাদানী বলেন, ‘জানি, আমার এই সিদ্ধান্তে আমার প্রথম আহলিয়ার (স্ত্রী) কষ্ট হয়েছে… হচ্ছে। এটা ভাবলেই আমার বুকটা ভেঙে যায়। তবুও আমি বিশ্বাস করি, এটি কোনো মানুষের বানানো নিয়ম নয়-এটি আমাদের সবার রবের বিধান। তিনি যা হালাল করেছেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি।
‘কিছুদিন ধরে আমি তাকে বুঝিয়েছি…অসংখ্য রাত আমি আল্লাহর কাছে কেঁদে দোয়া করেছি-যেন তার মনটা নরম হয়, যেন তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারেন। কখনো মনে হয়েছে তিনি বুঝছেন, আবার হঠাৎই ভেঙে পড়েছেন, না বলে দিয়েছেন। আমাদের আড়াই বছরের সংসার…আলহামদুলিল্লাহ, সেখানে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। আমরা দু’জনই একে অপরের সুখের কারণ ছিলাম। যারা আমাদের চেনে, তারা জানে-আমরা কতটা ভালো ছিলাম একসাথে। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা বা ইনসাফ করাকে সবচেয়ে বড় শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই বক্তা।
আলোচিত এই ইসলামী বক্তা বলেন, ‘আজ সেই ভালোবাসার মাঝেই এসেছে এক কঠিন পরীক্ষা। ইনসাফ করা-এটাই সবচেয়ে বড় শর্ত। আর আমি আল্লাহর কাছে মাথা নত করে দোয়া করি, যেন তিনি আমাকে সেই তাওফিক দেন। যেন আমি কারো হক নষ্ট না করি, কারো প্রতি জুলুম না করি। আপনাদের সকলের কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ তা‘আলা যেন আমার দুই পরিবারকে ধৈর্য দান করেন, তাদের অন্তরে প্রশান্তি দেন, এবং এই বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেওয়ার তাওফিক দেন। আর আমাকে এমন তাওফিক দিন, যেন আমি সত্যিই ইনসাফের সঙ্গে, তার সন্তুষ্টির জন্যই আমার সংসার পরিচালনা করতে পারি।’
এমআর