images

জাতীয়

ফিশারিজ প্রজেক্টে বিনিয়োগের নামে ৪০০ কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার ১

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৫ মে ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম

এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে মিলবে ৩ হাজার করে টাকা। যা ব্যাংকে লাখ টাকা রেখে পাওয়া সুদের তিনগুণ। এরপর আবার লাভসহ আসলের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে বিনিয়োগকৃত মূলধন দ্বিগুণ হবে—এমন প্রলোভনে পড়ে দুই বান্ধবী ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু পরে দেখেন কোনো লাভই নেই। উল্টো তাদের আসল টাকা তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে তারা থানায় মামলা করেন। 

তদন্তে জানা যায়, চক্রটি এভাবে শত শত মানুষের কাছ থেকে অন্তত ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় ওবায়েদুল্লাহ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তাকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)  নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো নামের কৃষি প্রকল্পে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের একজন সদস্য। তিনি ভোলার চরফ্যাশনের মৃত আবু নাইমের ছেলে। তাকে সোমবার রাতে ঢাকার সবুজবাগ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

যেভাবে প্রতারিত হলেন তিন বান্ধবী:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্ট নামে একটি ভুয়া প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে অধিক লাভ পাওয়া যাবে—এমন প্রচারণা চালায়। চক্রের সদস্যরা প্রতিশ্রুতি দেয়, ১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা লাভসহ আসলের সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং ৩৩ মাসে বিনিয়োগকৃত মূলধন দ্বিগুণ হবে।

প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে মামলার বাদী ও তার তিন বান্ধবী মিলে ২০২৩ সালের মে মাসে ওই প্রতিষ্ঠানের অফিসে গিয়ে বিনিয়োগ করেন। ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী নিজে ৭ লাখ টাকা এবং অন্য দুই বান্ধবী প্রত্যেকে ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে চক্রের সদস্যরা তাদের মানি রিসিট ও মাসিক ক্যাশব্যাকের কাগজ দেন। প্রথম দিকে আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে চক্রটির সদস্যরা ৪২ হাজার টাকা ফেরত দেন। এতে ভুক্তভোগীদের আস্থা আরও বেড়ে যায়। পরে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। এরপর প্লট ক্রয়ের কথা বলে মামলার বাদী ও অন্য দুই বান্ধবীর কাছ থেকে ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা বিনিয়োগের নামে জমা নেওয়া হয়।

জমাকৃত অর্থের লভ্যাংশ হিসেবে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দিলেও পরবর্তীতে লেনদেন স্থগিত করে অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় চক্রটি।

সিআইডির তদন্তে যা পাওয়া গেছে:
নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রজেক্টের নামে পরিচালিত চারটি ব্যাংক হিসাব, মানি রিসিট পর্যালোচনা এবং অফিস সার্ভারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে আরও জানা যায়, গত বছর ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। মামলা দায়েরের পরই অভিযুক্তরা পলাতক হয়ে যায় এবং গ্রেফতার এড়াতে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখে। তবে সোমবার সবুজবাগ থানাধীন বাসাবো এলাকা থেকে ওবায়েদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।

এমআইকে/এআর