images

জাতীয়

নতুন এইচআর নীতিমালা বাতিলসহ নানা দাবিতে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৫ মে ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) নতুন মানবসম্পদ নীতিমালা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সংস্থাটির কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (৫ মে) আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগরে বিএনএফ ভবনের (লেভেল ৮-১১) সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ। এতে দেশের ২০টি জেলা থেকে ক্লাস্টার পর্যায়ের কর্মীরা অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মীরা নতুন এইচআর নীতিমালা বাতিল, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগ, আরইএলআই প্রকল্পের ক্লাস্টার পর্যায়ের স্টাফদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সকল স্টাফের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ), গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটি (আর্ন লিভ) সুবিধার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, নতুন এইচআর নীতিমালার কারণে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠীর আস্থা কমে গেছে। ফলে বিশ্বব্যাংকের তহবিল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রকল্পের কার্যক্রম ও উপকারভোগীদের ওপর।

20

তারা বলেন, মাঠে কাজ করা সাধারণ কর্মীরা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। চাকরির মেয়াদ, সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত দাবিগুলো মেনে নিয়ে কার্যকর সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

কর্মসূচির এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা এনজিও ফাউন্ডেশন ভবন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কর্মীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।

এসডিএফ কর্মচারী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে কাজ করে আসছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের ন্যায্য অধিকার ও চাকরির নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। নতুন এইচআর নীতিমালা আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে এবং শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। একই সঙ্গে সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা শুধু প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করছে না, বরং আন্তর্জাতিক সহায়তাও বাধাগ্রস্ত করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ কর্মী ও সুবিধাভোগীদের ওপর।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আসিনি। আমাদের দাবি হলো চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও অর্জিত ছুটির মতো মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা এবং একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যা আমাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করেছে।

এএইচ/এএইচ