images

জাতীয়

গণমাধ্যমের ওপর জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

গণমাধ্যমের ওপর জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। এই আস্থা পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা জোরদার, পেশাগত মানোন্নয়ন, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম, সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

রোববার (৩ মে) বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারের মেঘমালা কনফারেন্স রুমে ইউনেসকো এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে সরকারের নীতিনির্ধারক, সম্পাদক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন। আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জনআস্থা পুনর্গঠন: বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’।

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জনআস্থা ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা জোরদারে গণমাধ্যমের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা ও জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন গণমাধ্যম পরিবেশ অপরিহার্য। পেশাদার সাংবাদিকতা জোরদার, সাংবাদিকদের সুরক্ষা এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা গণতান্ত্রিক শাসনের অন্যতম ভিত্তি। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউনেসকোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান ড. সুসান ভাইজ বলেন, একটি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও পেশাদার গণমাধ্যমই তথ্যভিত্তিক জনআলোচনা নিশ্চিত করে। বর্তমান তথ্যপ্রবাহের জটিল বাস্তবতায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ বজায় রাখা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেন দূতাবাসের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও জেন্ডার সমতা বিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি পাওলা কাস্ত্রো নিডারস্টাম।

অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য কেন্দ্র করে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, জ্যেষ্ঠ টেলিভিশন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নি এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্টস সেন্টারের চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ। আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব ও সীমাবদ্ধতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারকে গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

আলোচনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাতের বিরাজমান বিভিন্ন কাঠামোগত ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, সাংবাদিকদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং ডিজিটাল মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের দ্রুত বিস্তার বিশেষভাবে উঠে আসে।

ইউনেসকোর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণের আলোকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গণমাধ্যমের প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা জোরদার, পেশাগত মানোন্নয়ন, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যম, সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

এফএ