images

জাতীয়

আইনি পদক্ষেপ ছাড়া অপতথ্য বা গুজব রোধ সম্ভব নয়: জাহেদ  

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৩ মে ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো কোনো না কোনোভাবে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

রোববার (৩ মে) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য : কে শিকার? কে শিকারি?’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বলেন, কোনো না কোনোভাবে আইনি পদক্ষেপ ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। তবে সমালোচনা ও গালি ভিন্ন বিষয়; সেগুলো ফেক নিউজ নয়। ফেক নিউজকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারকে সুস্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো যে, একটি অপরাধ, তা অনেক সময় আমরা উপলব্ধিই করি না।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের ভাষা-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মামুন অর রশীদ। তিনি ফেক নিউজ প্রতিরোধে ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান ও পেশাদার ফ্যাক্ট চেকারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক আ-আল মামুন বলেন, ‘ডিসইনফরমেশন শুধু ব্যবসায়িক কারণে নয়, এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারও। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই এর শিকার হন, আবার তারাই অন্যকে শিকার বানান।’

দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক ও ফ্যাক্টচেক বিশেষজ্ঞ কদরুদ্দীন শিশির বলেন, অনেক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রকাশিত হলেও তা সংশোধন বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতা দেখা যায় না। ফেক নিউজকে সমর্থন করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করে এক ধরনের ‘ডিজিটাল দাসত্ব’ তৈরি করছে। মানুষ সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের বদলে নিজেদের মতের পক্ষে থাকা তথ্যকে বেশি গ্রহণ করছে, যার ফলে গণমাধ্যমের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেন। তিনি ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় কার্যকর ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, মিডিয়া সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যালগরিদম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

সেমিনারে অধ্যাপক আ-আল মামুন ও কাজী মামুন হায়দারের লেখা ‘বাংলাদেশে শিকারি সাংবাদিকতা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিনিয়র সাংবাদিক রাজীব আহমেদ, সাংবাদিক ও শিক্ষক নাজিয়া আফরিন মনামী, গবেষক ও ফ্যাক্টচেকার মিনহাজ আমান এবং আজহার উদ্দিন অনিক বক্তব্য দেন।

এমআইকে/এআর