images

জাতীয়

পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা রাষ্ট্রের জন্য চরম ক্ষতিকর: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৩ মে ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

একটি নৈতিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্বের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ বা পদোন্নতির জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা সাময়িকভাবে লাভজনক মনে হলেও তা সার্বিকভাবে রাষ্ট্রের জন্য চরম ক্ষতিকর এবং এটি জনপ্রশাসনকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দেয়।

রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী 'জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬' এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, জনবান্ধন নানা কাজের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে, জনরায়ের প্রতিফলন ঘটলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তা প্রমাণিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি। ডিসিদের কাজ করতে না দিলে নির্বাচনে কি হয় তা ২০১৪/২০১৮/২০২৪ সালে জাতি দেখেছে। 

তিনি ডিসিদের যেকোনো পদে কাজ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষায় ডিসিরাই প্রধান মাধ্যম, তাই সরকার তাদের ওপর নির্ভরশীল।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময়ে এই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে এবং দেশকে পুরোপুরি আমদানি নির্ভর করে ফেলেছিল। 

তিনি উল্লেখ করেন, বিগত শাসনামলে বিচার বিভাগ, শিক্ষা, দুদকসহ সব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর ছিল এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল ভঙ্গুর। সেই পরিস্থিতির মধ্যে আড়াই মাসে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তা এখনো সন্তোষজনক নয়। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জনভোগান্তি সরকার শক্ত হাতে মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

DC

প্রশাসনে পদোন্নতি ও বদলি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা ও দক্ষতাই বর্তমান সরকারের মূলনীতি। এই যোগ্যতার নিরিখেই পদোন্নতি বা বদলি করা হবে। এটাই বিএনপির নীতি।

তিনি আরো যোগ করেন, পুরোপুরি বৈষম্য শেষ করা সম্ভব না হলেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটি নৈতিক রাষ্ট্র গঠন করাই এই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ডিসিদের একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সন্ধ্যার মধ্যে মার্কেট বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিসিদের কঠোর হতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জনভোগান্তি কমাতে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম বাড়াতে হবে। জনগণের ন্যায্য অভিযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। খাদ্যে ভেজালকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

তিনি আরো বলেন, শুধু শীতকাল নয়, বছরের সব ঋতুতে জেলা পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংস্কৃতি ও খেলাধুলার প্রতিযোগিতা আয়োজনে ডিসিদের উদ্যোগ নিতে হবে।

বিইউ/এফএ