images

জাতীয়

আত্মহত্যা নিয়ে তরুণদের যে আহ্বান জানালেন প্রতিমন্ত্রী নুর

নিজস্ব প্রতিবেদক

০২ মে ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

ছোট ছোট অপ্রাপ্তি বা সাময়িক ব্যর্থতায় হতাশ হয়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। 

তিনি বলেন, আত্মনিয়ন্ত্রণ, ইতিবাচক মানসিকতা এবং ছোট ছোট উদ্যোগই জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর বাংলা একাডেমির শামসুর রহমান সেমিনার কক্ষে আঁচল ফাউন্ডেশনের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

দেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত দিনব্যাপী এই সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘জেনারেশন জেড, আলফা ও বেটা প্রজন্মের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা’।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ ও হতাশা বাড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মঘাতী প্রবণতায় রূপ নিচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, পরিবার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জীবনে ব্যর্থতা আসবেই, তবে সেই ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, তা দিয়েই ছোট ছোট উদ্যোগ নিলে ধীরে ধীরে সফলতার পথ তৈরি হয়।

nur2

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ, এমপি। তিনি তরুণদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় বাস্তবধর্মী দিকনির্দেশনা তুলে ধরে সঠিক মেন্টর, পরিবার ও বন্ধুর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাজিদা ফাউন্ডেশনের মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রুমা খন্দকার। তিনি বর্তমান প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, এর সামাজিক ও পারিবারিক প্রভাব এবং কার্যকর মানসিক স্বাস্থ্য ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বহুমাত্রিক উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া অতিথি বক্তা হিসেবে ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সায়েদুল ইসলাম সাঈদ কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা মানসিক সমস্যার কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ক্লিনিক্যাল সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. ফয়সাল রাহাত দেশের মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান অবস্থা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জান্নাতুল নওরিন উর্মি, যিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে মানসিক সংকট মোকাবিলার বাস্তবধর্মী দিক তুলে ধরেন এবং তরুণদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। 

জাতীয় অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পক্ষ থেকে উপস্থিত ডা. এসএম মুস্তাফিজ বলেন, ২৫ বছরের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করা গেলে এর বড় অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আঁচল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তানসেন রোজ এবং স্বাগত বক্তব্য দেন চিফ মেন্টর মো. সোহেল মামুন। 

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়।

এএইচ/এএইচ