images

জাতীয়

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ উন্নয়নে কাজ চলছে: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০২ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার কাজ সরকার শুরু করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (০২ মে) সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় যখন আমি এসেছিলাম আমি প্লেনে এসেছিলাম কিন্তু যাবার সময় আমি সড়ক পথে গিয়েছিলাম নির্বাচনি জনসভা করতে করতে এবং সেদিন আমি বলেছিলাম যে সিলেট থেকে লন্ডন যেতে খুব সম্ভব নয় সাড়ে নয় ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বাই রোড যাবার অবস্থা রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায় এবং সেদিন বলেছিলাম যে আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ইনশা আল্লাহ আমরা এই কাজটিতে হাত দেব যাতে এটা দ্রুত হয়।

তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠন করার পরে এই দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলেছি। আমি তখন জানতে পারলাম, খুব সম্ভবত কাজটি যখন শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায় তাদের যে কোম্পানিগুলো কাজ করবে তাদের যে সাইট অফিস থাকে সেখানে জমি একোয়ার করতে হয় সাইট অফিস এবং বিভিন্ন কারণে ১১টি জায়গায় যেখানে সমস্যা রয়ে গেছে… প্রশাসনিক সমস্যা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। আমি আশা করছি ইনশা আল্লাহ দ্রুততম সময় আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। সময় লাগবে তবে কাজটি শুরু করলে ইনশা আল্লাহ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আমরা এটা ইনশা আল্লাহ শেষ করতে পারব। তার ফলে মানুষের যাতায়াতে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোড যাতায়াতের এত কষ্ট মানুষকে ইনশা আল্লাহ ভোগ করতে হবে না।

‘সিলেটে ডাবল লাইনে রেল’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করছে- সারাদেশে কিভাবে রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করা যায়। রেল যোগাযোগটাকে বৃদ্ধি করলে স্বাভাবিকভাবে অধিকাংশ মানুষ এটিতে যাতায়াত করবেন, এটিতে খরচ কম হবে, সেটি ব্যবসার খরচও কম হবে।

সড়ক পথের থেকে রেল পথের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বলেন, আমরা রাস্তা যতই বড় করতে থাকি ততই গাড়ি নামবে রাস্তায়। ট্রাফিক বাড়বেই। আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আমরা পৃথিবীর খুব সম্ভবত অষ্টম স্থানে আছি। কিন্তু আমরা ল্যান্ডওয়ে যদি চিন্তা করি আমাদের দেশটা হয়তো অত বড় না। অনেক দেশ থেকেই ছোট। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাংলাদেশ হচ্ছে একটি কৃষি প্রধান দেশ। সেজন্য রাস্তা যদি নির্মাণ করি আমরা একই সাথে কিন্তু আমাদের ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে….সেই বিষয়টাকে আমাদের মাথায় রাখতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, এত বিপুল সংখ্যক জনগণের খাবার তো আমরা বিদেশ থেকে ইমপোর্ট করা সম্ভব না এবং আমরা আলহামদুলিল্লাহ মোটামুটিভাবে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ। কাজেই এটিকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করব কিন্তু রেলটাকে আমরা ডেভেলপ করতে চাই। আপনারা নিশ্চয়ই ইন্টারেস্টেড হবেন যে, ঢাকা-সিলেট বা সিলেট-ঢাকার রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন। আমরা চেষ্টা করছি সিলেটে ডবল লাইন কিভাবে করা যায়? ডাবল লাইনের মাধ্যমে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়?

শুধু সিলেট নয় সারাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করছে বলে সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্য বর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। এছাড়া সিলেটে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ সিটি করপোরেশনের প্রকল্প গ্রহণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

খাবার পানির সমস্যার সমাধানে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার ভবিষ্যতে সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ড পানি ব্যবহার বেশি করে মাটির নিচে এই পানির ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে সেটিও মাথায় রাখতে হবে...। আমরা যে খাল খনন একটি কর্মসূচি শুরু করেছি এই কর্মসূচির লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য কিন্তু এই সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার জন্য। আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল যেটা আছে সেটা শুধু সিলেট সিটি করপোরেশনে নয় এই সমস্যা ঢাকাতে হচ্ছে, এই সমস্যা অন্য অনেক শহরে বড় সমস্যা হচ্ছে। যেভাবে আমরা মাটির নিচে যে পানি আছে এটিকে যেভাবে টেনে তুলছি...এটি ধীরে ধীরে একটি ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা পুরো পরিস্থিতিটাকে এখনই অ্যাড্রেস করতে চাই তাহলে সবচেয়ে প্রথম যে উপায়টি হচ্ছে আমাদেরকে খাল খনন করতে হবে এবং খাল খননের মাধ্যমে এই যে পানিগুলো দেখুন বর্ষার সময়, বৃষ্টির সময় এত পানি আসছে তা জলাধার তৈরি হয়েছে কাজে লাগাতে হবে।

6

সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ময়লা-আবর্জনা-পলিথিন ইত্যাদি অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি করপোরেশনকে আমি অনুরোধ করব, অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন, মানুষ যাতে সেবা পায়, কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে অবহিত করার জন্য, সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন। যেমন প্লাস্টিক, পলিথিন, কাগজ, যেকোনো বর্জ্যদ্রব্য হোক না কেন, এই জিনিসগুলো যত্রতত্র যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে। আপনারা বিশেষ করে যতগুলো সিটি করপোরেশন স্কুল আছে, ছোট ছোট বাচ্চা, বিশেষ করে প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল—এই বাচ্চাদেরকে যদি এই জিনিসটা শেখানোর উদ্যোগ নেন, সেটা ভালো ফল দেবে। কারণ কি? বড়রা শিখলেও কিছু শুনলেও সমাজে শিখতে চায় না। ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ বছরের মানুষকে যদি আপনি কিছু শিখাতে চান, অনেক বেগ পেতে হয়। আর আপনি যদি একটা ছোট বাচ্চাকে ভালো কিছু শেখান, ওটা কিন্তু তার মাথায় ঢুকে যায় এবং ছোট বাচ্চাকে যদি আপনি সেটা শিখিয়ে ফেলতে পারেন, সবচেয়ে বড় যেটা সুবিধা হয়, সে স্কুলে ভালো জিনিস যে শিখে আসবে, সেটা সে যেমন ফলো করবে, সে তার বাবা-মাকেও মানতে বাধ্য করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেজন্য আমি সিলেটসহ সব সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ করবো, আপনারা যদি অন্তত আপনাদের এলাকায় সিটি করপোরেশনের ভিতরে যে সকল স্কুল আছে, সে স্কুলগুলোতে যদি আপনারা কোনো উদ্যোগ দিয়ে বাচ্চাদেরকে এই বিষয়গুলোতে সচেতন করতে পারেন, তাহলে আমরা ধীরে ধীরে এই কাজটি শুরু করতে পারব। এতে পরিবেশকে আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করে আনতে পারব। মনে রাখতে হবে, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তারা দেশ এবং জাতির জন্য ভালো কোনো কিছু আজকে যেটা শিখবে, নিশ্চয়ই তারা যখন বড় হবে, তারা ইনশাআল্লাহ, যখন একটি অবস্থানে যাবে, কেউ না কেউ, তারা সেটি দেশের জন্য, সমাজের জন্য, মানুষের জন্য তারা প্রয়োগ করবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ প্রমুখ, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।

বিইউ/এএস