images

জাতীয়

শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০১ মে ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

মহান মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শিল্পখাত পুনর্গঠন ও শ্রমিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ দেড় দশক পর সশরীরে শ্রমিক দলের সমাবেশে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বদ্ধপরিকর। শ্রমিকদের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য। 

শুক্রবার (১ মে) নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে বন্ধ কলকারখানা চালু ও কর্মসংস্থান নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশ ঘিরে নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় ছিল লোকে লোকারণ্য। শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা মে দিবসের তাৎপর্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবেশে যোগ দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হয়।

678335095_872080369234279_69183203739484031_n

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তার সামনে থাকা ‘বন্ধ কলকারখানা চালু করতে হবে’ লেখা ব্যানারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার, বিএনপি সরকার- জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এ কারণে সরকার গঠনের পরপরই আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে বসেছি এবং নির্দেশনা দিয়েছি। আপনারা জানলে খুশি হবেন, গত এক মাস আগে দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে এই সপ্তাহে বৈঠক রয়েছে—কীভাবে দ্রুত বন্ধ কলকারখানাগুলোর মধ্যে কোনগুলো দ্রুত চালু করা যায়, যাতে কর্মসংস্থান হারানো শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়।’

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। ‘ইনশাআল্লাহ, বিগত বছরগুলোতে বন্ধ হয়ে যাওয়া দেশের অনেক কলকারখানা আমরা ধাপে ধাপে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে শুধু এসব কলকারখানা চালু হলেই সব শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না। এখনও দেশে বহু বেকার মানুষ রয়েছে। তাদের জন্য দেশে যেমন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, তেমনি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।’

শ্রমিকদের পারিবারিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ডের কথা আমরা বলেছি, তা শ্রমিকদের স্ত্রীরা পাবেন। শ্রমিকরা যেমন কলকারখানায় পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবেন, তেমনি রাষ্ট্রও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে, যাতে তাদের দুশ্চিন্তা কমে।’

দেশের উন্নয়ন শ্রমিকদের কল্যাণের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কলকারখানা তৈরি হলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। শ্রমিকরা ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। কৃষকরা ভালো থাকলেও বাংলাদেশ ভালো থাকবে। অর্থাৎ খেটে খাওয়া মানুষ ভালো থাকলেই দেশ ভালো থাকবে।’

679712587_1445599940137941_4840015465824361921_n

তিনি নয়াপল্টন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং সব ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

তিনি বলেন, ‘নয়াপল্টনে আমাদের সমাবেশের কারণে এলাকার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও বাসিন্দাদের কিছুটা কষ্ট হয়। গত ১৭ বছর আমরা এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এ সময় অনেকেই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং দলের পক্ষ থেকে এই এলাকার বাসিন্দাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আপনারা সবসময় ধৈর্য ও সহমর্মিতা দেখিয়ে আমাদের পাশে ছিলেন।’

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

বিইউ/এমআই